অফিস: শনি–বৃহস্পতি, সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৭টা

তাওয়াফ ও সাঈ

গাইড

দোয়া

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أُرِيْدُ طَوَافَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ فَيَسِّرْهُ لِيْ وَتَقَبَّلْهُ مِنِّيْ

উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদু তাওয়াফা বাইতিকাল মুহাররামি ফাইয়াসসিরহু লি ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নি।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্র ঘর তাওয়াফ করার নিয়ত করছি। অতএব আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে কবুল করে নিন।

কখন: তাওয়াফ শুরুর আগে · সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ

রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আজাবান্নার।

অর্থ

হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করো।

কখন: তাওয়াফের প্রতি চক্করে · সূত্র: সুরা বাকারা ২:২০১; সুনানে আবু দাউদ

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللّٰهِ

উচ্চারণ

ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শা‘আইরিল্লাহ।

অর্থ

নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

কখন: সাঈর শুরুতে, সাফায় · সূত্র: সুরা বাকারা ২:১৫৮; সহিহ মুসলিম

بِسْمِ اللّٰهِ اللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى رَسُوْلِ اللّٰهِ

উচ্চারণ

বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালিল্লাহিল হামদ, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ।

অর্থ

আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, সব প্রশংসা আল্লাহর এবং দরুদ ও সালাম আল্লাহর রাসুলের প্রতি।

কখন: তাওয়াফের শুরুতে, হাজরে আসওয়াদের বরাবর · সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ حَجًّا مَبْرُوْرًا وَذَنْبًا مَغْفُوْرًا وَسَعْيًا مَشْكُوْرًا

উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাজআলহু হাজ্জাম মাবরুরান ওয়া জানবান মাগফুরান ওয়া সা‘ইয়ান মাশকুরান।

অর্থ

হে আল্লাহ, এই হজকে মকবুল হজ ও গুনাহ মাফের উপলক্ষ বানিয়ে দিন এবং এই প্রচেষ্টা কবুল করুন।

কখন: তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে · সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ

উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া রিযকান ওয়াসিআ, ওয়া শিফাআম মিন কুল্লি দা।

অর্থ

হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক এবং সব রোগ থেকে আরোগ্য কামনা করছি।

কখন: জমজমের পানি পান করার সময় · সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ

উচ্চারণ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, আনজাযা ওয়া‘দাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।

অর্থ

আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সব রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সব বিষয়ে ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক; তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে বিজয়ী করেছেন এবং একাই শত্রুবাহিনীকে পরাভূত করেছেন।

কখন: সাঈর সময় সাফা ও মারওয়ায় · সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়; সহিহ মুসলিম

رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ

উচ্চারণ

রাব্বিগফির ওয়ারহাম, ইন্নাকা আনতাল আআযযুল আকরাম।

অর্থ

হে প্রভু, আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী ও পরম দাতা।

কখন: সাঈর সময় সবুজ বাতির মাঝে · সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

প্রশ্নোত্তর

ফরজ তাওয়াফ অজু ছাড়া করে ফেললে কী করতে হবে?

ফরজ তাওয়াফ বিনা অজুতে করে ফেললে তা পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব; না করলে দম ওয়াজিব হবে।

তাওয়াফে চক্কর গুনতে সন্দেহ হলে কী করব?

যে সংখ্যার প্রতি মন বেশি সায় দেয় সেটিকে ধরে বাকি চক্কর পূর্ণ করুন। কোনো সংখ্যায় স্থির হতে না পারলে কম সংখ্যাটি ধরে বাকি চক্কর সম্পন্ন করুন। ভিড়ে গোনার জন্য তাসবিহ বা আঙুল ব্যবহার করা সহজ।

তাওয়াফে সাত চক্করের বেশি হয়ে গেলে কী করণীয়?

প্রথম তাওয়াফের সাত চক্করের পর অতিরিক্ত চক্কর শুরু হয়ে গেলে আরও সাত চক্কর পূর্ণ করে দ্বিতীয় একটি তাওয়াফ সম্পন্ন করতে হবে।

সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।

নফল তাওয়াফের পরেও কি দুই রাকাত নামাজ পড়তে হয়?

হ্যাঁ। ফরজ বা নফল — যেকোনো তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামাজ পড়া ওয়াজিব।

সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।

কোন তাওয়াফে ইজতিবা করতে হয়?

যে তাওয়াফের পর সাঈ আছে এবং ইহরামের কাপড় পরা আছে, সেই তাওয়াফে পুরুষের ইজতিবা (চাদর ডান বগলের নিচ দিয়ে বাঁ কাঁধে রাখা) করা সুন্নত। তাওয়াফে যিয়ারাহ ইহরাম অবস্থায় করলে তাতেও ইজতিবা করতে হবে।

সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।

কাবার দিকে বুক ঘুরিয়ে তাওয়াফ করলে কী হবে?

তাওয়াফের সময় বায়তুল্লাহর দিকে বুক ঘোরানো মাকরুহ। জেনেও ইচ্ছাকৃতভাবে যতটুকু অংশ বুক ঘুরিয়ে তাওয়াফ করা হয়েছে, ততটুকু স্থান আবার তাওয়াফ করতে হবে।

সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।

হায়েজ বা নিফাস অবস্থায় তাওয়াফের বিধান কী?

হায়েজ-নিফাস অবস্থায় তাওয়াফ করা নিষিদ্ধ; পবিত্র হওয়ার পর তাওয়াফ করবেন। এ অবস্থায় ফরজ তাওয়াফ করে ফেললে পুনরায় তাওয়াফ ওয়াজিব। পুনরায় করার সুযোগ না থাকলে মক্কা বা মিনায় একটি উট বা গরু জবাই করে বিলিয়ে দেওয়া ওয়াজিব।

সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।

অজু ছাড়া তাওয়াফ ও সাঈ করা যাবে?

অজুর সাথে তাওয়াফ করা ওয়াজিব। সাঈর জন্য অজু থাকা মুস্তাহাব — সাঈর সময় অজু ভেঙে গেলে আবার অজু করা জরুরি নয়।

সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।

সাঈর পর দুই রাকাত নামাজ পড়ার বিধান কী?

সুন্নত।

সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।

আপনার প্রশ্নের উত্তর পাননি? আমাদের ফোন করুন — আলেমদের সাথে পরামর্শ করে জানাব।