প্রশ্নোত্তর
হজ ও উমরাহর মাসআলা, সহজ ভাষায়।
উমরাহর ফরজ ও ওয়াজিব কয়টি?
উমরাহর ফরজ ২টি — ইহরাম ও তাওয়াফ। ওয়াজিব ২টি — সাফা-মারওয়ায় সাঈ এবং হলক বা কসর (চুল মুণ্ডানো বা ছোট করা)।
বাংলাদেশ থেকে গেলে মিকাত কোনটি?
বাংলাদেশ থেকে বিমানে গেলে বিমান সাধারণত কারনুল মানাজিল বা যাতু ইরক মিকাত অতিক্রম করে, তাই এই মিকাত পার হওয়ার আগেই ইহরাম বাঁধতে হবে। বিমানে সাধারণত ঘোষণা দেওয়া হয়, তবে ঢাকা থেকেই ইহরামের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা নিরাপদ। সমুদ্রপথে গেলে মিকাত হলো ইয়ালামলামের বরাবর সমুদ্রের স্থান। ঢাকা থেকে সরাসরি মদিনায় গেলে রওনার সময় ইহরামের প্রয়োজন নেই — মদিনা থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে জুল হুলায়ফা (আবিয়ারে আলী) মিকাতে ইহরাম বাঁধবেন।
হজের ফরজ কয়টি?
হজের ফরজ ৩টি — ইহরাম করা, উকুফে আরাফা (৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থান) এবং তাওয়াফে যিয়ারাহ (ফরজ তাওয়াফ)।
মহিলারা চুল কতটুকু কাটবেন?
মহিলারা মাথার চুলের অগ্রভাগ থেকে কমপক্ষে আঙুলের এক কর পরিমাণ কাটবেন। মহিলাদের জন্য মাথা মুণ্ডানো নেই।
হজের ওয়াজিব কয়টি?
হজের ওয়াজিব ৬টি:
১. ৯ জিলহজ দিবাগত রাতে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয়ের মধ্যে কিছু সময় মুযদালিফায় অবস্থান।
২. ১০ জিলহজ বড় জামারায় ৭টি এবং ১১ ও ১২ জিলহজ তিন জামারায় ৭টি করে কংকর নিক্ষেপ।
৩. কিরান ও তামাত্তু হজে দমে শোকর বা কুরবানি।
৪. হলক বা কসর।
৫. সাফা-মারওয়ায় সাঈ।
৬. মিকাতের বাইরে থেকে আসা হাজিদের বিদায়ী তাওয়াফ।
কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে দম দেওয়া ওয়াজিব।
হজ কত প্রকার?
হজ তিন প্রকার:
ইফরাদ — শুধু হজের নিয়তে ইহরাম করে হজ পালন।
তামাত্তু — হজের মাসে প্রথমে উমরাহর ইহরাম করে উমরাহ পালন, পরে হজের জন্য আবার ইহরাম করে হজ পালন। এতে কুরবানি ওয়াজিব।
কিরান — একই ইহরামে উমরাহ ও হজ দুটোই পালন (উমরাহর পরে হালাল না হয়ে)। এতেও কুরবানি ওয়াজিব।
বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অধিকাংশ হাজি তামাত্তু হজ করেন।
১০ জিলহজের আমলগুলো কোন ক্রমে করতে হয়?
প্রথমে বড় জামারায় ৭টি কংকর নিক্ষেপ, তারপর (তামাত্তু ও কিরান হলে) কুরবানি, তারপর হলক বা কসর। এই তিন আমলের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব। এরপর তাওয়াফে যিয়ারাহ ও সাঈ — সম্ভব না হলে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে অবশ্যই তাওয়াফে যিয়ারাহ সম্পন্ন করতে হবে।
মুযদালিফা থেকে কতটি কংকর সংগ্রহ করব?
মোট ৪৯টি কংকর লাগে (১০ তারিখ ৭টি, ১১ ও ১২ তারিখ ২১টি করে)। ১৩ তারিখ মিনায় থাকলে আরও ২১টি লাগে। তাই মুযদালিফা থেকে ৭০টি কংকর সংগ্রহ করে নেওয়া ভালো।
ফরজ তাওয়াফ অজু ছাড়া করে ফেললে কী করতে হবে?
ফরজ তাওয়াফ বিনা অজুতে করে ফেললে তা পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব; না করলে দম ওয়াজিব হবে।
তাওয়াফে চক্কর গুনতে সন্দেহ হলে কী করব?
যে সংখ্যার প্রতি মন বেশি সায় দেয় সেটিকে ধরে বাকি চক্কর পূর্ণ করুন। কোনো সংখ্যায় স্থির হতে না পারলে কম সংখ্যাটি ধরে বাকি চক্কর সম্পন্ন করুন। ভিড়ে গোনার জন্য তাসবিহ বা আঙুল ব্যবহার করা সহজ।
ইহরাম অবস্থায় কোন কাজগুলো নিষিদ্ধ?
সুগন্ধি ব্যবহার, চুল বা নখ কাটা, স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা, শিকার করা এবং ঝগড়া-বিবাদ নিষিদ্ধ। পুরুষের জন্য সেলাই করা কাপড় পরা এবং মাথা ও মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ কাজ থেকে বেঁচে থাকা ইহরামের ওয়াজিব।
হজ-উমরাহর সফরে নামাজ কসর করব কি?
যাতায়াত পথে নামাজ কসর করবেন। গন্তব্যে একই স্থানে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করলে পূর্ণ নামাজ, আর ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করলে কসর পড়বেন। তবে স্থানীয় ইমামের পেছনে জামাতে পড়লে ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব।
নারীদের হজে কি মাহরাম সঙ্গী আবশ্যক?
শরিয়াহর বিধান অনুসারে নারীদের হজের সফরে স্বামী বা মাহরাম সফরসঙ্গী থাকা আবশ্যক। মাহরাম সঙ্গী না থাকলে বা সঙ্গীর খরচ বহনের সামর্থ্য না থাকলে তিনি অপেক্ষা করবেন; সমস্যার সমাধান না হলে বদলি হজ করাবেন। উমরাহর ক্ষেত্রে সৌদি সরকারের সর্বশেষ ভিসা নীতিও যাত্রার আগে জেনে নিন।
রিয়াজুল জান্নাহয় নামাজ পড়তে কী করতে হয়?
বর্তমানে রিয়াজুল জান্নাহয় প্রবেশের জন্য নুসুক (Nusuk) অ্যাপে আগে থেকে সময় বুক করতে হয়। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা সময় থাকে। নিয়ম বদলাতে পারে — মদিনায় পৌঁছে গাইডের কাছে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নিন।
ইসলামে উমরাহর বিধান কী?
যার হজের সামর্থ্য নেই কিন্তু উমরাহর সামর্থ্য আছে, তার ওপর জীবনে একবার উমরাহ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
হজ ফরজ হওয়ার পর দরিদ্র হয়ে পড়লে কি হজের ফরজ রহিত হয়?
না। হজ ফরজ হওয়ার বছরে আদায় না করে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করলে, পরে দরিদ্র হয়ে পড়লেও হজের ফরজ রহিত হয় না।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
ইহরাম ছাড়া মিকাত অতিক্রম করলে কী করতে হবে?
মিকাতে ফিরে এসে ইহরাম বাঁধা আবশ্যক। মিকাত অতিক্রমের পরে ইহরাম বাঁধলে দম ওয়াজিব হবে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
তাওয়াফে সাত চক্করের বেশি হয়ে গেলে কী করণীয়?
প্রথম তাওয়াফের সাত চক্করের পর অতিরিক্ত চক্কর শুরু হয়ে গেলে আরও সাত চক্কর পূর্ণ করে দ্বিতীয় একটি তাওয়াফ সম্পন্ন করতে হবে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
নফল তাওয়াফের পরেও কি দুই রাকাত নামাজ পড়তে হয়?
হ্যাঁ। ফরজ বা নফল — যেকোনো তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামাজ পড়া ওয়াজিব।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
কোন তাওয়াফে ইজতিবা করতে হয়?
যে তাওয়াফের পর সাঈ আছে এবং ইহরামের কাপড় পরা আছে, সেই তাওয়াফে পুরুষের ইজতিবা (চাদর ডান বগলের নিচ দিয়ে বাঁ কাঁধে রাখা) করা সুন্নত। তাওয়াফে যিয়ারাহ ইহরাম অবস্থায় করলে তাতেও ইজতিবা করতে হবে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
কাবার দিকে বুক ঘুরিয়ে তাওয়াফ করলে কী হবে?
তাওয়াফের সময় বায়তুল্লাহর দিকে বুক ঘোরানো মাকরুহ। জেনেও ইচ্ছাকৃতভাবে যতটুকু অংশ বুক ঘুরিয়ে তাওয়াফ করা হয়েছে, ততটুকু স্থান আবার তাওয়াফ করতে হবে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
কোন সময় উমরাহ করা মাকরুহ?
৮ থেকে ১২ জিলহজ — হজের এই পাঁচ দিন উমরাহ করা মাকরুহ। এই সময়ে উমরাহর নিয়ত করে ফেললে পরে তা পূর্ণ করা ওয়াজিব।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
হারাম ও মিকাতের মাঝের এলাকায় যারা থাকেন, তাদের মিকাত কোথায়?
হারাম এলাকার সীমানা থেকে মিকাত পর্যন্ত এলাকাকে হিল্ল বলে। এখানকার বাসিন্দাদের হজ ও উমরাহর মিকাত তাদের নিজ অবস্থানস্থল।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
মক্কার হারাম এলাকায় যারা থাকেন, তারা ইহরাম কোথা থেকে বাঁধবেন?
হজের ইহরাম হারামের সীমানার ভেতর থেকে, আর উমরাহর ইহরাম হিল্ল এলাকা থেকে (যেমন তানঈম বা মসজিদে আয়েশা) বাঁধবেন। তামাত্তু হাজিরাও হজের ইহরাম মক্কায় নিজ অবস্থান থেকে বাঁধবেন।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
কাজের উদ্দেশ্যে হারাম এলাকায় গেলে কি ইহরাম লাগবে?
না, শুধু কাজের উদ্দেশ্যে সফরকারীদের জন্য ইহরাম আবশ্যক নয়।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
ইহরামের আগে লাগানো সুগন্ধির ঘ্রাণ পরে থেকে গেলে সমস্যা আছে?
না, অসুবিধা নেই। তবে ইহরামের পরে ইহরামের কাপড়ে যেন সুগন্ধি না লাগে সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
হায়েজ বা নিফাস অবস্থায় ইহরাম করা ও মসজিদুল হারামে প্রবেশ করা যাবে কি?
হায়েজ-নিফাস অবস্থায় ইহরাম করা যাবে, তবে ইহরামের নামাজ পড়া যাবে না এবং মসজিদুল হারামে প্রবেশ করা যাবে না।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
হায়েজ বা নিফাস অবস্থায় তাওয়াফের বিধান কী?
হায়েজ-নিফাস অবস্থায় তাওয়াফ করা নিষিদ্ধ; পবিত্র হওয়ার পর তাওয়াফ করবেন। এ অবস্থায় ফরজ তাওয়াফ করে ফেললে পুনরায় তাওয়াফ ওয়াজিব। পুনরায় করার সুযোগ না থাকলে মক্কা বা মিনায় একটি উট বা গরু জবাই করে বিলিয়ে দেওয়া ওয়াজিব।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
তাওয়াফে যিয়ারাহ ১০–১২ জিলহজের মধ্যে করতে না পারলে কী করণীয়?
নারীরা প্রাকৃতিক কারণে করতে না পারলে পবিত্র হওয়ার সাথে সাথে আদায় করবেন। বিমানের সময়সূচির কারণে অপবিত্র অবস্থায় ফরজ তাওয়াফ করতে বাধ্য হলে করবেন, তবে একটি গরু জবাই করে মক্কা-মিনার দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দিতে হবে। পুরুষদের তাওয়াফে যিয়ারাহ আদায়ও করতে হবে এবং দমও দিতে হবে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
ইহরাম অবস্থায় অসতর্কতায় মাথা ঢেকে ফেললে কী করণীয়?
মাথা ঢেকে রাখার মোট সময় একদিন বা এক রাতের সমান হলে দম দিতে হবে। ঘণ্টা পরিমাণ হলে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম গম বা তার মূল্য সাদাকাহ, আর এর চেয়ে কম হলে এক মুঠো গম বা তার মূল্য সাদাকাহ করতে হবে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
মিকাত অতিক্রমের সময় ইহরামের কাপড় সঙ্গে না থাকলে কী করব?
স্বাভাবিক পোশাকেই নিয়ত ও তালবিয়া পড়ে ইহরাম করুন এবং যত দ্রুত সম্ভব ইহরামের পোশাক পরুন। ইহরামের পোশাক ছাড়া ১২ ঘণ্টার বেশি কেটে গেলে দম ওয়াজিব হবে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
ইহরাম বেঁধে স্বাভাবিক পোশাকে মিকাত অতিক্রম করলে কী হবে?
পূর্ণ একদিন বা এক রাত স্বাভাবিক পোশাক পরে থাকলে দম দিতে হবে। ঘণ্টা পরিমাণ হলে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম গম বা তার মূল্য সাদাকাহ, আর এর চেয়ে কম হলে এক মুঠো গম বা তার মূল্য সাদাকাহ।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
ওজরের কারণে আঙুল ঢেকে যায় এমন স্যান্ডেল পরা যাবে?
আঙুল ঢেকে গেলে অসুবিধা নেই, তবে পায়ের পাতার উঁচু হাড়ের অংশ ও গোড়ালি খোলা রাখতে হবে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
ইহরামে নিষিদ্ধ “সেলাই করা কাপড়” বলতে কী বোঝায়?
মানবদেহের কোনো অঙ্গের আকৃতিতে তৈরি পোশাক — যেমন জামা, পায়জামা, গেঞ্জি। শুধু সেলাই থাকলেই নিষিদ্ধ নয়; অঙ্গের মাপে তৈরি পোশাকই নিষিদ্ধ।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
ইহরাম থেকে মুক্ত হতে নিজের মাথা নিজে মুণ্ডন করা যাবে?
হ্যাঁ, ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য নিজের মাথা নিজে এবং অন্যের মাথাও মুণ্ডন করা যাবে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
অজু ছাড়া তাওয়াফ ও সাঈ করা যাবে?
অজুর সাথে তাওয়াফ করা ওয়াজিব। সাঈর জন্য অজু থাকা মুস্তাহাব — সাঈর সময় অজু ভেঙে গেলে আবার অজু করা জরুরি নয়।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
সাঈর পর দুই রাকাত নামাজ পড়ার বিধান কী?
সুন্নত।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
মিনায় রাত্রিযাপনের বিধান কী?
সুন্নত।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
মুযদালিফায় কখন ও কতক্ষণ থাকলে ওয়াজিব আদায় হবে?
সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যোদয়ের আগে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেই ওয়াজিব আদায় হবে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
আরাফায় কখন ও কতক্ষণ থাকলে ফরজ আদায় হবে?
সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে যাওয়ার পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত কিছুক্ষণ অবস্থান করলেই ফরজ আদায় হবে। তবে সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করা সুন্নত। সূর্যাস্তের আগে আরাফার সীমানা থেকে বের হয়ে গেলে এবং সূর্যাস্তের আগে ফিরে না এলে দম ওয়াজিব হবে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
ওজরের কারণে ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পরে আরাফায় পৌঁছালে ফরজ আদায় হবে?
ফরজ আদায় হবে, তবে দম দিতে হবে। (৯ জিলহজ দিবাগত রাতের সুবহে সাদিকের আগে কিছু সময় অবস্থান করতে হবে।)
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
কংকর নিক্ষেপের সময় কখন শুরু হয়?
১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর এবং ১১ ও ১২ জিলহজ সূর্য পশ্চিমে হেলে যাওয়ার পর কংকর নিক্ষেপের সময় শুরু হয়। ১০ তারিখের কংকর ১১ তারিখের সুবহে সাদিকের মধ্যে নিক্ষেপ না করলে দম ওয়াজিব হবে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
মুযদালিফায় মাগরিব ও এশা একসাথে কীভাবে পড়বেন?
এক আজান ও এক ইকামতে, মাঝখানে কোনো সুন্নত না পড়ে মাগরিব ও এশার ফরজ পরপর আদায় করবেন। এরপর সুন্নতে মুয়াক্কাদা ও বিতর পড়বেন।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
অন্যকে দিয়ে কংকর নিক্ষেপ করানো যাবে?
যিনি বাহনে চড়েও কংকর নিক্ষেপের স্থানে যেতে অক্ষম, তিনি অন্যের মাধ্যমে কংকর নিক্ষেপ করাতে পারবেন। নিক্ষেপকারী আগে নিজের কংকর, পরে অক্ষম ব্যক্তির কংকর নিক্ষেপ করবেন। শরিয়তসম্মত ওজর ও অসুস্থতা ছাড়া প্রতিনিধির মাধ্যমে নিক্ষেপ করালে ওয়াজিব আদায় হয় না।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
দমে শোকর কোন হজে ওয়াজিব এবং কোথায় জবাই করতে হয়?
কিরান ও তামাত্তু হজে দমে শোকর ওয়াজিব এবং তা হারাম এলাকায় আদায় করতে হয়। ব্যাংকের মাধ্যমে দমে শোকর আদায় করাও জায়েজ।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
দমে শোকর আদায়ের সামর্থ্য না থাকলে বিকল্প কী?
৯ জিলহজের আগে তিনটি রোজা এবং ১৩ জিলহজের পরে আরও সাতটি রোজা রাখতে হবে। রোজা রাখতে না পারলে দমে শোকর আদায় করতে হবে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
হাজিদের ওপর কি ঈদুল আযহার কুরবানি ওয়াজিব?
হাজি যদি মক্কায় মুকিম হয়ে যান এবং তার কাছে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার সমপরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে ঈদুল আযহার কুরবানি ওয়াজিব। এ কুরবানি নিজ দেশে আদায় করলেও হবে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
হিল্ল ও হারাম এলাকার বাসিন্দাদের কি বিদায়ী তাওয়াফ করতে হয়?
না, হিল্ল ও হারাম এলাকায় বসবাসকারীদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ নেই। আর নারীরা প্রাকৃতিক কারণে বিদায়ী তাওয়াফ করতে না পারলে কোনো দম বা কাফফারা দিতে হয় না।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
ভিড় এড়াতে নারীরা কি ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে কংকর নিক্ষেপ করতে পারবেন?
হ্যাঁ, জায়েজ।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
উমরাহ ও হজে তালবিয়া পড়া কখন বন্ধ করতে হয়?
উমরাহর ক্ষেত্রে তাওয়াফ শুরুর আগে, আর হজের ক্ষেত্রে ১০ জিলহজ বড় জামারায় কংকর নিক্ষেপের আগে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
পুরুষ মাথার এক অংশের চুল কাটলে কি ইহরাম থেকে মুক্ত হবেন?
না। মাথার পুরো চুলের কমপক্ষে চার ভাগের এক ভাগ ছোট করা বা মুণ্ডন করা ওয়াজিব; এর চেয়ে কম কাটলে ইহরাম থেকে মুক্ত হবেন না এবং ইহরামের নিষেধাজ্ঞাগুলো বহাল থাকবে। পুরো মাথা মুণ্ডানো বা ছোট করা সুন্নত।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে চলাচল করা যাবে?
নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে চলাচল করা মাকরুহ।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
মসজিদুল হারামে নারীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা কী?
শরিয়াহসম্মত পর্দা রক্ষা করা, আতর-সুগন্ধি ব্যবহার না করা, নারীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে নামাজ আদায় করা এবং কোনোভাবেই পুরুষদের কাতারে নামাজে না দাঁড়ানো।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
ইহরাম অবস্থায় নারীরা মুখ ঢাকবেন কীভাবে?
ইহরাম অবস্থায় নারীর চেহারায় কাপড় লেগে থাকা নিষিদ্ধ। গায়রে মাহরামের সামনে চেহারা ঢেকে রাখবেন, তবে খেয়াল রাখবেন কাপড় যেন চেহারার সাথে লেগে না থাকে। নারীদের জন্য জুতা, মোজা ও হিজাব পরা জায়েজ।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
এই শব্দে কোনো প্রশ্ন পাওয়া যায়নি।
