অফিস: শনি–বৃহস্পতি, সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৭টা

কাবা ও মসজিদে নববি

নম্বরে চাপ দিয়ে দেখুন কোন স্থানের কী তাৎপর্য, আর তাওয়াফ, সাঈ ও জিয়ারতের সময় সেখানে কী করবেন।

নকশাটি বোঝার সুবিধার জন্য সরল করে আঁকা — মাপ ও দূরত্ব আনুমানিক। কমলা দাগ: তাওয়াফের দিক — কাবা সবসময় বাঁ দিকে।

১তাওয়াফের শুরু ও শেষ

হাজরে আসওয়াদ

الحجر الأسود

কাবার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে, মাতাফ থেকে প্রায় দেড় মিটার উঁচুতে স্থাপিত জান্নাতি কালো পাথর। প্রতিটি তাওয়াফ এখান থেকে শুরু হয় এবং প্রতি চক্কর এখানেই শেষ হয়।

এখানে যা করবেন

  • পাথরের বরাবর দাঁড়িয়ে বায়তুল্লাহর দিকে ফিরে তাকবির বলুন: "বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার…"
  • সম্ভব হলে কাউকে কষ্ট না দিয়ে স্পর্শ ও চুম্বন করুন; না হলে দূর থেকে দুই হাত তুলে ইশারা করে হাতে চুমু খান

সতর্কতা: চুম্বনের জন্য ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি করবেন না — কাউকে কষ্ট দেওয়া গুনাহ, ইশারাই যথেষ্ট।

২দোয়া কবুলের স্থান

মুলতাজাম ও কাবার দরজা

الملتزم · باب الكعبة

হাজরে আসওয়াদ ও কাবার দরজার মাঝের দেয়ালের অংশকে মুলতাজাম বলে। কাবার দরজা মাটি থেকে বেশ উঁচুতে, এই দেয়ালেই।

এখানে যা করবেন

  • সম্ভব হলে মুলতাজামে বুক ও গাল লাগিয়ে দোয়া করুন
  • ভিড় বেশি হলে দূরে দাঁড়িয়ে এদিকে ফিরে দোয়া করুন

সতর্কতা: কাউকে কষ্ট দিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।

৩কাবার দ্বিতীয় কোণ

রুকনে ইরাকি

الركن العراقي

হাজরে আসওয়াদের পর তাওয়াফের পথে কাবার দ্বিতীয় কোণ; এরপর হাতিম।

এখানে যা করবেন

  • তাওয়াফ চালিয়ে যান; এখানে আলাদা কোনো আমল নেই
৪কাবারই অংশ

হাতিম (হিজরে ইসমাইল)

الحطيم · حجر إسماعيل

কাবার উত্তর পাশে অর্ধবৃত্তাকার নিচু দেয়ালঘেরা জায়গা — এটি মূল কাবারই অংশ। ওপরের সোনালি নালাটি মিজাবে রহমত।

এখানে যা করবেন

  • তাওয়াফ সবসময় হাতিমের বাইরে দিয়ে করুন
  • তাওয়াফ ছাড়া অন্য সময় সুযোগ পেলে হাতিমের ভেতরে নফল নামাজ ও দোয়া করুন

সতর্কতা: হাতিমের ভেতর দিয়ে তাওয়াফ করলে সেই চক্কর গণ্য হয় না।

৫কাবার তৃতীয় কোণ

রুকনে শামি

الركن الشامي

সিরিয়ার দিকের কোণ — হাতিম পার হয়ে এই কোণে আসবেন।

এখানে যা করবেন

  • তাওয়াফ চালিয়ে যান
৬স্পর্শ করা সুন্নত

রুকনে ইয়ামানি

الركن اليماني

ইয়েমেনের দিকের চতুর্থ কোণ। এরপরই হাজরে আসওয়াদ।

এখানে যা করবেন

  • সম্ভব হলে স্পর্শ করুন — স্পর্শ করতে না পারলে ইশারার বিধান নেই
  • এখান থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত "রাব্বানা আতিনা…" দোয়া পড়ুন
৭তাওয়াফের পর দুই রাকাত

মাকামে ইবরাহিম

مقام إبراهيم

যে পাথরে দাঁড়িয়ে ইবরাহিম (আ.) কাবা নির্মাণ করেছিলেন; পাথরে তাঁর পায়ের ছাপ আছে। সোনালি কাচের আবরণে রাখা, কাবার দরজার সামনে।

এখানে যা করবেন

  • তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ পড়া উত্তম
  • ভিড় হলে মাতাফ বা মসজিদের যেকোনো স্থানে পড়লেও চলবে

সতর্কতা: মাকামের ঠিক পেছনে নামাজ পড়ে তাওয়াফকারীদের পথ আটকাবেন না।

৮তাওয়াফের পর পান

জমজম

زمزم

হাজেরা (আ.) ও শিশু ইসমাইল (আ.)-এর জন্য আল্লাহর নির্দেশে প্রবাহিত বরকতময় কূপ। এখন কূপটি মাটির নিচে; পুরো মসজিদে জমজমের পানির ব্যবস্থা আছে।

এখানে যা করবেন

  • তাওয়াফ ও দুই রাকাত নামাজের পর জমজম পান করুন — দাঁড়িয়ে বা বসে দুইভাবেই পান করা যায়
  • "বিসমিল্লাহ" বলে শুরু করুন, দোয়া করুন, শেষে "আলহামদুলিল্লাহ" বলুন
৯সাঈর শুরু

সাফা

الصفا

হাজরে আসওয়াদের দিকের ছোট পাহাড়। সাঈ এখান থেকে শুরু হয়।

এখানে যা করবেন

  • সাফায় উঠে কাবার দিকে ফিরে "ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা…" পড়ে দোয়া করুন
  • এরপর মারওয়ার দিকে হাঁটা শুরু করুন — এটি প্রথম চক্কর
১০পুরুষ দ্রুত চলবেন

সবুজ বাতি (মাইলাইন)

الميلين الأخضرين

সাফা ও মারওয়ার মাঝে সবুজ বাতি দিয়ে চিহ্নিত অংশ — হাজেরা (আ.) পানির খোঁজে এখানে দৌড়েছিলেন।

এখানে যা করবেন

  • পুরুষ দুই সবুজ বাতির মাঝে মাঝারি গতিতে দৌড়ে চলবেন
  • নারী স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবেন
  • "রাব্বিগফির ওয়ারহাম…" দোয়া পড়া উত্তম
১১সাঈর শেষ

মারওয়া

المروة

সাঈর অপর প্রান্তের পাহাড়। সাফা থেকে মারওয়া এক চক্কর, মারওয়া থেকে সাফা আরেক চক্কর — সপ্তম চক্কর মারওয়ায় শেষ।

এখানে যা করবেন

  • এখানেও কাবার দিকে ফিরে দোয়া করুন
  • সাঈ শেষে হলক বা কসর করে উমরাহ সম্পন্ন করুন

সতর্কতা: সাফা → মারওয়া → সাফা মিলে এক চক্কর নয়।

১২মুসলমানদের কিবলা

কাবা শরিফ

الكعبة المشرفة

আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহ — বিশ্বের মুসলমানদের কিবলা। উচ্চতা প্রায় ১৪ মিটার। কালো রেশমি আবরণকে কিসওয়া বা গিলাফ বলে, যা প্রতি বছর ৯ জিলহজ বদলানো হয়।

এখানে যা করবেন

  • কাবার ওপর প্রথম দৃষ্টি পড়লে দোয়া করুন — এটি দোয়া কবুলের সময়

সতর্কতা: তাওয়াফের সময় কাবার দিকে বুক ঘোরানো মাকরুহ।

কাবা চত্বরের স্থানগুলো