অফিস: শনি–বৃহস্পতি, সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৭টা

তাওয়াফ ও সাঈর বিধান

পড়তে সময় লাগবে: ৮ মিনিট সর্বশেষ হালনাগাদ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬

তাওয়াফ শব্দের অর্থ প্রদক্ষিণ করা। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শরিয়ত নির্দেশিত পদ্ধতিতে কাবা শরিফ সাতবার প্রদক্ষিণ করাকে তাওয়াফ বলে। হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে ঘুরে আবার হাজরে আসওয়াদে এলে এক চক্কর; সাত চক্করে এক তাওয়াফ।

তাওয়াফের প্রকার

  • উমরাহর তাওয়াফ — উমরাহর ফরজ।
  • তাওয়াফে কুদুম — ইফরাদ ও কিরান হাজির আগমনী তাওয়াফ (সুন্নত)।
  • তাওয়াফে যিয়ারাহ — হজের ফরজ তাওয়াফ, ১০–১২ জিলহজ।
  • বিদায়ী তাওয়াফ — মিকাতের বাইরের হাজিদের জন্য ওয়াজিব।
  • নফল তাওয়াফ — যেকোনো সময়।

তাওয়াফের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত

ফরজ ৩টি: নিয়ত করা, বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করা, নিজে তাওয়াফ করা।

ওয়াজিব ৬টি: শরীর পাক থাকা (অজু থাকা), হেঁটে তাওয়াফ করা (সক্ষম হলে), হাতিমের বাইরে দিয়ে তাওয়াফ করা, সাত চক্কর পূর্ণ করা, হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করা, তাওয়াফ শেষে দুই রাকাত নামাজ পড়া।

সুন্নত: হাজরে আসওয়াদের দিকে মুখ করে শুরু করা, প্রথম তিন চক্করে পুরুষের রমল, প্রতি চক্করে সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন বা ইশারা, তাওয়াফ ও নামাজ শেষে জমজমের পানি পান।

তাওয়াফের নিয়ম

  1. তাওয়াফের নিয়ত করুন:

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أُرِيْدُ طَوَافَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ فَيَسِّرْهُ لِيْ وَتَقَبَّلْهُ مِنِّيْ

  1. সম্ভব হলে কাউকে কষ্ট না দিয়ে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ ও চুম্বন করা সুন্নত; চুম্বনের জন্য কাউকে কষ্ট দেওয়া গুনাহ। সম্ভব না হলে হাজরে আসওয়াদের বরাবর এসে বায়তুল্লাহর দিকে ফিরে তাকবির বলে দুই হাত তুলে ইশারা করে হাতে চুমু খেয়ে তাওয়াফ শুরু করুন।
  2. কাবাকে বাঁ পাশে রেখে হাতিমের বাইরে দিয়ে তাওয়াফ করুন।
  3. প্রতি চক্করের শুরুতে “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” বলুন। তাওয়াফের সময় বায়তুল্লাহর দিকে বুক ঘোরানো এবং ইচ্ছা করে তাকানো মাকরুহ।
  4. প্রতি চক্করে রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ করা সুন্নত; স্পর্শ করতে না পারলে এর প্রতি ইশারা করার বিধান নেই।
  5. তাওয়াফে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই — আরবি বা নিজের ভাষায় যেকোনো দোয়া, তাকবির, তাহলিল, দরুদ ও জিকির করা যায়। রুকনে ইয়ামানি থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত “রাব্বানা আতিনা…” পড়া সুন্নত।
  6. তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে দুই রাকাত “ওয়াজিবুত তাওয়াফ” নামাজ পড়া উত্তম; ভিড়ে মাতাফ বা মসজিদের যেকোনো স্থানে পড়া যাবে। নিষিদ্ধ ও মাকরুহ সময়ে এ নামাজ থেকে বিরত থাকুন। প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরুন ও দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পড়া উত্তম।
  7. নামাজ শেষে জমজমের পানি পান করুন।

তাওয়াফের মাঝে জামাত শুরু হলে তাওয়াফ থামিয়ে জামাতে নামাজ পড়ুন; কত চক্কর হয়েছে মনে রেখে নামাজের পর বাকি চক্কর শেষ করুন।

সাঈর নিয়ম

নিয়ত: মনে মনে সংকল্প করুন — হে আল্লাহ, আমি আপনার নিদর্শন সাফা-মারওয়ার সাঈ করার ইচ্ছা করছি; আপনি তা সহজ করে দিন এবং কবুল করুন।

  1. সাফা পাহাড়ে ওঠার সময় “ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ…” (সুরা বাকারা ১৫৮) পড়া উত্তম।
  2. যেখান থেকে বায়তুল্লাহ দেখা যায় সেখানে দাঁড়িয়ে তাকবির ও দোয়া পড়ে দুই হাত তুলে কাকুতি-মিনতির সাথে দোয়া করুন।
  3. মারওয়ার দিকে হাঁটুন। সবুজ চিহ্নিত অংশে পুরুষ মাঝারি গতিতে দৌড়ে চলবেন।
  4. সাফা থেকে মারওয়া এক চক্কর, মারওয়া থেকে সাফা আরেক চক্কর — সাত চক্কর পূর্ণ করা ওয়াজিব; শেষ চক্কর মারওয়ায়।

সাঈর সময় মনে রাখুন

  • সক্ষম হলে হেঁটে সাঈ করা ওয়াজিব।
  • সাফা ও মারওয়ার একেবারে চূড়ায় ওঠার প্রয়োজন নেই।
  • সাঈর সময় জামাত শুরু হলে থেমে নামাজ পড়ে নিন, তারপর বাকি চক্কর শেষ করুন।
  • সাঈর জন্য অজু মুস্তাহাব; অজু ভেঙে গেলে আবার অজু করা জরুরি নয়।
  • নিচতলায় ভিড় থাকলে ওপরের তলায় সাঈ করতে পারেন।
  • সাঈর পথে জমজমের পানির কনটেইনার আছে।
  • ঋতুমতী নারী সাঈ করতে পারবেন, কিন্তু তাওয়াফ করতে পারবেন না।

নারীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা: শরিয়াহসম্মত পর্দা রক্ষা করা, আতর-সুগন্ধি ব্যবহার না করা, নির্ধারিত স্থানে নামাজ আদায় করা এবং কোনোভাবেই পুরুষদের কাতারে নামাজে না দাঁড়ানো।

সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)। তাওয়াফের ফরজ-ওয়াজিব: প্রথম আলো ওমরাহ গাইড।