বিষয় বেছে নিন
প্রতিটি প্রশ্নে একটি সঠিক উত্তর। উত্তর দিলেই ব্যাখ্যা দেখাবে, সময়ের কোনো চাপ নেই।
যেগুলো আবার দেখে নিন
উত্তর দেখতে প্রতিটি প্রশ্নে চাপ দিন।
-
উমরাহর ফরজ কয়টি ও কী কী?
- ক. ২টি — ইহরাম ও তাওয়াফ ✓
- খ. ২টি — তাওয়াফ ও সাঈ
- গ. ৩টি — ইহরাম, তাওয়াফ ও সাঈ
- ঘ. ৪টি — ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ ও হলক
উমরাহর ফরজ ২টি — ইহরাম ও তাওয়াফ। সাঈ এবং হলক বা কসর হলো ওয়াজিব।
ধাপে ধাপে উমরাহ → -
বাংলাদেশ থেকে বিমানে মক্কায় গেলে বিমান সাধারণত কোন মিকাত অতিক্রম করে?
- ক. জুল হুলায়ফা
- খ. জুহফা
- গ. কারনুল মানাজিল বা যাতু ইরক ✓
- ঘ. তানঈম
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়িকা অনুযায়ী বিমান সাধারণত কারনুল মানাজিল বা যাতু ইরক অতিক্রম করে — তার আগেই ইহরাম বাঁধতে হবে। ইয়ালামলাম হলো সমুদ্রপথের মিকাত।
মিকাত: কোথায় ইহরাম বাঁধবেন → -
তাওয়াফ কোথা থেকে শুরু করতে হয়?
- ক. রুকনে ইয়ামানি
- খ. মাকামে ইবরাহিম
- গ. হাজরে আসওয়াদ ✓
- ঘ. কাবার দরজা
হাজরে আসওয়াদের বরাবর দাঁড়িয়ে ইস্তিলাম করে তাওয়াফ শুরু হয়, আর প্রতিটি চক্কর সেখানেই শেষ হয়।
ধাপে ধাপে উমরাহ → -
হাতিমের ভেতর দিয়ে তাওয়াফ করলে কী হয়?
- ক. সওয়াব বেশি হয়
- খ. কোনো সমস্যা নেই
- গ. শুধু নারীদের জন্য নিষেধ
- ঘ. চক্করটি পূর্ণ গণ্য হয় না ✓
হাতিম কাবারই অংশ। তাই তাওয়াফ সবসময় হাতিমের বাইরে দিয়ে করতে হয়।
ধাপে ধাপে উমরাহ → -
পুরুষ কোন চক্করগুলোতে রমল করবেন?
- ক. প্রথম তিন চক্করে ✓
- খ. শেষ তিন চক্করে
- গ. সাত চক্করেই
- ঘ. কোনো চক্করে নয়
যে তাওয়াফের পর সাঈ আছে, তাতে পুরুষ প্রথম তিন চক্করে রমল (কাঁধ দুলিয়ে ছোট পায়ে দ্রুত চলা) করবেন।
ধাপে ধাপে উমরাহ → -
ইযতিবা বলতে কী বোঝায়?
- ক. ডান কাঁধ খোলা রেখে চাদর ডান বগলের নিচ দিয়ে বাম কাঁধে রাখা ✓
- খ. দুই কাঁধ ঢেকে রাখা
- গ. মাথা ঢেকে রাখা
- ঘ. দ্রুত হাঁটা
যে তাওয়াফের পর সাঈ আছে, পুরুষের জন্য তার সাত চক্করেই ইযতিবা সুন্নত। তাওয়াফ শেষে নামাজের আগে কাঁধ ঢেকে নিতে হয়।
তাওয়াফ ও সাঈর বিধান → -
তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামাজ কোথায় পড়া উত্তম?
- ক. সুযোগ থাকলে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে ✓
- খ. হাতিমের ভেতরে
- গ. সাফা পাহাড়ে
- ঘ. শুধু হোটেলে ফিরে
সুযোগ থাকলে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে, ভিড় থাকলে মসজিদুল হারামের যেকোনো জায়গায় এই দুই রাকাত পড়া যায়।
তাওয়াফ ও সাঈর বিধান → -
সাঈ কয় চক্কর এবং কোথায় শেষ হয়?
- ক. ৭ চক্কর, সাফায়
- খ. ৭ চক্কর, মারওয়ায় ✓
- গ. ১৪ চক্কর, মারওয়ায়
- ঘ. ৭ চক্কর, হাতিমে
সাফা থেকে মারওয়া এক চক্কর, মারওয়া থেকে সাফা আরেক চক্কর — তাই সপ্তম চক্কর মারওয়ায় শেষ হয়।
ধাপে ধাপে উমরাহ → -
ইহরাম অবস্থায় কোনটি নিষিদ্ধ?
- ক. তালবিয়া পড়া
- খ. জমজম পান করা
- গ. সুগন্ধি ব্যবহার করা ✓
- ঘ. সুগন্ধিমুক্ত সাবান ব্যবহার
ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি, চুল-নখ কাটা, শিকার ও ঝগড়া নিষিদ্ধ। পুরুষের জন্য সেলাই করা কাপড় ও মাথা ঢাকাও নিষিদ্ধ।
ইহরামের বিধান → -
পুরুষের ইহরামের পোশাক কোনটি?
- ক. সেলাইবিহীন দুটি চাদর ✓
- খ. সাদা পাঞ্জাবি ও টুপি
- গ. যেকোনো সাদা কাপড়
- ঘ. জুব্বা ও পাগড়ি
পুরুষ একটি সেলাইবিহীন চাদর লুঙ্গির মতো পরবেন, আরেকটি গায়ে জড়াবেন; মাথা খোলা থাকবে।
ইহরামের বিধান → -
ইহরাম অবস্থায় নারীদের কোন বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়?
- ক. মাথা খোলা রাখতে হয়
- খ. সাদা কাপড়ই পরতে হয়
- গ. কাপড় যেন মুখমণ্ডলে লেগে না থাকে ✓
- ঘ. মোজা পরা নিষেধ
নারীরা সাধারণ সেলাই করা পোশাক ও মোজা পরতে পারেন, মাথা ঢেকে রাখবেন। তবে মুখমণ্ডলে কাপড় লেগে থাকবে না — পর্দার জন্য এমনভাবে আবরণ রাখবেন যেন তা মুখ স্পর্শ না করে।
ইহরামের বিধান → -
তালবিয়া পড়া কখন শুরু করতে হয়?
- ক. ইহরামের নিয়তের সঙ্গে ✓
- খ. কাবা দেখার পর
- গ. তাওয়াফ শেষে
- ঘ. সাঈ শেষে
নিয়তের সঙ্গে তালবিয়া পড়লেই ইহরাম শুরু হয়। উমরাহয় তাওয়াফ শুরুর আগে তালবিয়া বন্ধ করা হয়।
ধাপে ধাপে উমরাহ → -
উমরাহ শেষে নারীরা চুল কতটুকু কাটবেন?
- ক. পুরো মাথা মুণ্ডন
- খ. আঙুলের এক কর পরিমাণ ✓
- গ. এক মুঠো পরিমাণ
- ঘ. কাটতে হয় না
নারীরা চুলের অগ্রভাগ থেকে কমপক্ষে আঙুলের এক কর পরিমাণ কাটবেন; তাদের জন্য মাথা মুণ্ডানো নেই।
ধাপে ধাপে উমরাহ → -
ইহরাম অবস্থায় নখ বা চুল কাটলে কী করতে হয়?
- ক. কিছুই করতে হয় না
- খ. পরিমাণভেদে দম বা সাদাকাহ দিতে হয় ✓
- গ. উমরাহ বাতিল হয়ে যায়
- ঘ. শুধু নতুন করে নিয়ত করতে হয়
এক হাত বা পায়ের সব নখ, বা মাথার চার ভাগের এক ভাগ চুল কাটলে দম; এর কম হলে সাদাকাহ। সঙ্গে তাওবা-ইস্তেগফারও করবেন।
ভুল হলে কী করবেন: দম, বাদানাহ ও সাদাকাহ → -
হজের ফরজ কয়টি?
- ক. ২টি
- খ. ৩টি ✓
- গ. ৪টি
- ঘ. ৬টি
হজের ফরজ ৩টি — ইহরাম, উকুফে আরাফা ও তাওয়াফে যিয়ারাহ। ওয়াজিব ৬টি।
হজের মৌলিক বিষয়: শর্ত, প্রকার, ফরজ-ওয়াজিব-সুন্নত → -
বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অধিকাংশ হাজি কোন ধরনের হজ করেন?
- ক. ইফরাদ
- খ. কিরান
- গ. তামাত্তু ✓
- ঘ. কোনোটিই নয়
তামাত্তুতে প্রথমে উমরাহ করে ইহরাম খোলা হয়, পরে ৮ জিলহজ হজের ইহরাম বাঁধা হয়। এতে দমে শোকর (কুরবানি) ওয়াজিব।
হজের মৌলিক বিষয়: শর্ত, প্রকার, ফরজ-ওয়াজিব-সুন্নত → -
৮ জিলহজ হাজিরা কোথায় অবস্থান করেন?
- ক. আরাফা
- খ. মিনা ✓
- গ. মুযদালিফা
- ঘ. মদিনা
৮ জিলহজ হজের ইহরাম বেঁধে মিনায় যেতে হয় এবং সেখানে জোহর থেকে পরদিন ফজর পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া সুন্নত।
হজের দিনগুলো: ধাপে ধাপে তামাত্তু হজ → -
উকুফে আরাফা কোন তারিখে?
- ক. ৮ জিলহজ
- খ. ৯ জিলহজ ✓
- গ. ১০ জিলহজ
- ঘ. ১১ জিলহজ
৯ জিলহজ সূর্য পশ্চিমে হেলে যাওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান হজের প্রধান ফরজ।
হজের দিনগুলো: ধাপে ধাপে তামাত্তু হজ → -
৯ জিলহজ দিবাগত রাত কোথায় কাটাতে হয়?
- ক. মিনা
- খ. আরাফা
- গ. মুযদালিফা ✓
- ঘ. মক্কার হোটেল
সূর্যাস্তের পর আরাফা থেকে মুযদালিফায় এসে মাগরিব-এশা একসঙ্গে পড়ে রাত কাটাতে হয়; সুবহে সাদিকের পর সেখানে কিছু সময় অবস্থান ওয়াজিব।
হজের দিনগুলো: ধাপে ধাপে তামাত্তু হজ → -
মুযদালিফা থেকে কতটি কংকর সংগ্রহ করা ভালো?
- ক. ৭টি
- খ. ২১টি
- গ. ৪৯টি
- ঘ. ৭০টি ✓
কমপক্ষে ৪৯টি লাগে; ১৩ তারিখ মিনায় থাকলে আরও ২১টি — তাই ৭০টি সংগ্রহ করে নেওয়া ভালো।
হজের দিনগুলো: ধাপে ধাপে তামাত্তু হজ → -
তামাত্তু হজে ১০ জিলহজের আমলগুলোর সঠিক ক্রম কোনটি?
- ক. কুরবানি → কংকর → হলক
- খ. হলক → কংকর → কুরবানি
- গ. কংকর → কুরবানি → হলক ✓
- ঘ. কংকর → হলক → কুরবানি
বড় জামারায় কংকর, তারপর কুরবানি, তারপর হলক — এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব।
হজের দিনগুলো: ধাপে ধাপে তামাত্তু হজ → -
বিদায়ী তাওয়াফ কার জন্য ওয়াজিব নয়?
- ক. বাংলাদেশি হাজি
- খ. ঋতুমতী নারী ✓
- গ. বয়স্ক হাজি
- ঘ. প্রথমবার হজে যাওয়া হাজি
মক্কার বাইরের হাজিদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ ওয়াজিব, তবে বিদায়ের সময় ঋতুমতী নারীর জন্য তা মাফ।
হজের দিনগুলো: ধাপে ধাপে তামাত্তু হজ → -
মসজিদে নববিতে এক ওয়াক্ত নামাজের মর্যাদা কেমন?
- ক. মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য মসজিদের এক হাজার নামাজের চেয়ে উত্তম ✓
- খ. অন্য মসজিদের সমান
- গ. ১০ গুণ বেশি
- ঘ. শুধু জুমার নামাজে বেশি
নবী (সা.) বলেছেন, আমার এই মসজিদে এক নামাজ মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য মসজিদের এক হাজার নামাজের চেয়ে উত্তম। (সহিহ বুখারি ১১৯০)
মদিনা জিয়ারতের নিয়ম ও আদব → -
রিয়াজুল জান্নাহ কোথায়?
- ক. নবী (সা.)-এর ঘর ও মিম্বরের মাঝখানে ✓
- খ. জান্নাতুল বাকিতে
- গ. মসজিদে কুবায়
- ঘ. উহুদ প্রান্তরে
নবী (সা.) বলেছেন, আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানগুলোর একটি। এখন প্রবেশের জন্য নুসুক অ্যাপে সময় বুক করতে হয়।
মদিনা জিয়ারতের নিয়ম ও আদব → -
মদিনা জিয়ারতের জন্য কি ইহরাম বাঁধতে হয়?
- ক. হ্যাঁ, সবসময়
- খ. না — জিয়ারত হজ-উমরাহর অংশ নয় ✓
- গ. শুধু হজের মৌসুমে
- ঘ. শুধু পুরুষদের
মসজিদে নববি জিয়ারত সুন্নত, হজ বা উমরাহর অংশ নয় — তাই ইহরাম বা তালবিয়া লাগে না। মদিনা থেকে মক্কায় উমরাহর জন্য গেলে জুল হুলায়ফায় ইহরাম বাঁধতে হয়।
মদিনা জিয়ারতের নিয়ম ও আদব → -
মসজিদে কুবায় দুই রাকাত নামাজের ফজিলত কী?
- ক. একটি উমরাহর সমান সওয়াব ✓
- খ. একটি হজের সমান সওয়াব
- গ. কোনো বিশেষ ফজিলত নেই
- ঘ. দশ রাকাতের সমান
হাদিসে আছে, মসজিদে কুবায় নামাজ একটি উমরাহর সমান (তিরমিজি ৩২৪)। ঘর থেকে অজু করে যাওয়া উত্তম।
মদিনা জিয়ারতের নিয়ম ও আদব → -
মক্কায় ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত থাকলে একা চার রাকাতের ফরজ নামাজ কীভাবে পড়বেন?
- ক. কসর — দুই রাকাত ✓
- খ. পূর্ণ চার রাকাত
- গ. নামাজ মাফ
- ঘ. শুধু ফজর কসর হবে
একই স্থানে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত হলে মুসাফির হিসেবে চার রাকাতের ফরজ দুই রাকাত পড়বেন।
হজ-উমরাহর সফরে নামাজ: কসর না পূর্ণ → -
মুসাফির হিসেবে স্থানীয় ইমামের পেছনে জামাতে নামাজ পড়লে কী করবেন?
- ক. ইমামের অনুসরণে পূর্ণ নামাজ পড়বেন ✓
- খ. দুই রাকাত পড়ে সালাম ফেরাবেন
- গ. জামাতে পড়া যাবে না
- ঘ. আলাদা নিয়ত করে ইমামের আগে শেষ করবেন
মুকিম ইমামের পেছনে মুসাফিরকে ইমামের অনুসরণ করে পূর্ণ নামাজই পড়তে হয়।
হজ-উমরাহর সফরে নামাজ: কসর না পূর্ণ → -
দম বলতে কী বোঝায়?
- ক. একটি বকরি, দুম্বা বা ভেড়া জবাই ✓
- খ. একটি গরু বা উট জবাই
- গ. এক ফিতরা পরিমাণ দান
- ঘ. শুধু তাওবা
দম হলো একটি বকরি, দুম্বা বা ভেড়া জবাই। গরু বা উট জবাইকে বাদানাহ বলে, আর এক ফিতরা দানকে সাদাকাহ।
ভুল হলে কী করবেন: দম, বাদানাহ ও সাদাকাহ → -
দমের পশু কোথায় জবাই করতে হয়?
- ক. হারামের সীমানার মধ্যে ✓
- খ. নিজের দেশে ফিরে
- গ. মদিনায়
- ঘ. যেকোনো জায়গায়
দমের পশু হারামের সীমানার মধ্যেই জবাই করে গোশত বিলিয়ে দিতে হয়; নিজে বা স্বচ্ছল কেউ তা খেতে পারবেন না।
ভুল হলে কী করবেন: দম, বাদানাহ ও সাদাকাহ →
