অফিস: শনি–বৃহস্পতি, সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৭টা

ধাপে ধাপে উমরাহ

পড়তে সময় লাগবে: ৮ মিনিট সর্বশেষ হালনাগাদ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬

উমরাহর ফরজ ২টি — ইহরাম ও তাওয়াফ; ওয়াজিব ২টি — সাঈ এবং হলক বা কসর। নিচের ধাপগুলো ক্রম অনুযায়ী পালন করুন। প্রতিটি ধাপে করণীয়, দোয়া ও সাধারণ ভুলগুলো দেওয়া আছে।

ধাপ ১ — ফরজ

ইহরাম

ইহরাম হলো উমরাহর নিয়তে নির্দিষ্ট পোশাক পরে তালবিয়া পাঠের মাধ্যমে পবিত্র অবস্থায় প্রবেশ করা। বাংলাদেশ থেকে বিমানে গেলে বিমান সাধারণত কারনুল মানাজিল বা যাতু ইরক মিকাত অতিক্রম করে — তার আগেই ইহরাম বাঁধতে হবে। ঢাকা থেকে সরাসরি মদিনায় গেলে মদিনা থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে মিকাতে ইহরাম বাঁধবেন।

করণীয়

  1. নখ কাটা, অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করে গোসল বা অজু করুন।
  2. পুরুষ সেলাইবিহীন দুটি সাদা কাপড় (লুঙ্গি ও চাদর) পরবেন; নারী স্বাভাবিক শালীন পোশাক পরবেন, মুখ ও হাত খোলা থাকবে।
  3. মাকরুহ সময় না হলে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন।
  4. উমরাহর নিয়ত করুন।
  5. তালবিয়া পড়ুন — পুরুষ উচ্চস্বরে, নারী নিচু স্বরে।
দোয়া — তালবিয়া

لَبَّيْكَ اللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيْكَ لَكَ

উচ্চারণ

লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।

অর্থ

আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির। আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সব প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব তোমারই, তোমার কোনো শরিক নেই।

কখন: ইহরামের নিয়তের পর থেকে · সূত্র: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম

সাধারণ ভুল

  • ইহরাম ছাড়া মিকাত অতিক্রম করা।
  • ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করা বা চুল-নখ কাটা।
  • পুরুষের মাথা ঢেকে রাখা।

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশ থেকে গেলে মিকাত কোনটি?

বাংলাদেশ থেকে বিমানে গেলে বিমান সাধারণত কারনুল মানাজিল বা যাতু ইরক মিকাত অতিক্রম করে, তাই এই মিকাত পার হওয়ার আগেই ইহরাম বাঁধতে হবে। বিমানে সাধারণত ঘোষণা দেওয়া হয়, তবে ঢাকা থেকেই ইহরামের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা নিরাপদ। সমুদ্রপথে গেলে মিকাত হলো ইয়ালামলামের বরাবর সমুদ্রের স্থান। ঢাকা থেকে সরাসরি মদিনায় গেলে রওনার সময় ইহরামের প্রয়োজন নেই — মদিনা থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে জুল হুলায়ফা (আবিয়ারে আলী) মিকাতে ইহরাম বাঁধবেন।

ইহরাম অবস্থায় কোন কাজগুলো নিষিদ্ধ?

সুগন্ধি ব্যবহার, চুল বা নখ কাটা, স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা, শিকার করা এবং ঝগড়া-বিবাদ নিষিদ্ধ। পুরুষের জন্য সেলাই করা কাপড় পরা এবং মাথা ও মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ কাজ থেকে বেঁচে থাকা ইহরামের ওয়াজিব।

ধাপ ২ — ফরজ

তাওয়াফ

অজু অবস্থায় হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে কাবা শরিফকে বাঁ পাশে রেখে সাতবার প্রদক্ষিণ করাই উমরাহর তাওয়াফ।

করণীয়

  1. অজু করে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করুন; তাওয়াফ শুরু করার সময় তালবিয়া বন্ধ করুন।
  2. পুরুষ চাদর ডান বগলের নিচ দিয়ে বাঁ কাঁধে রাখবেন (ইজতিবা)।
  3. হাজরে আসওয়াদের বরাবর দাঁড়িয়ে ইস্তিলাম করে তাওয়াফ শুরু করুন।
  4. পুরুষ প্রথম তিন চক্করে রমল (ছোট পায়ে দ্রুত চলা) করবেন।
  5. সাত চক্কর শেষে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে (সম্ভব না হলে মসজিদের যেকোনো স্থানে) দুই রাকাত নামাজ পড়ুন ও জমজমের পানি পান করুন।

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ

রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আজাবান্নার।

অর্থ

হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করো।

কখন: তাওয়াফের প্রতি চক্করে · সূত্র: সুরা বাকারা ২:২০১; সুনানে আবু দাউদ

সাধারণ ভুল

  • হাতিমের ভেতর দিয়ে তাওয়াফ করা — হাতিম কাবারই অংশ।
  • চক্কর গুনতে ভুল করা; সন্দেহ হলে কম সংখ্যা ধরে নিন।
  • হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের জন্য ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি করা।

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নোত্তর

তাওয়াফে চক্কর গুনতে সন্দেহ হলে কী করব?

যে সংখ্যার প্রতি মন বেশি সায় দেয় সেটিকে ধরে বাকি চক্কর পূর্ণ করুন। কোনো সংখ্যায় স্থির হতে না পারলে কম সংখ্যাটি ধরে বাকি চক্কর সম্পন্ন করুন। ভিড়ে গোনার জন্য তাসবিহ বা আঙুল ব্যবহার করা সহজ।

ফরজ তাওয়াফ অজু ছাড়া করে ফেললে কী করতে হবে?

ফরজ তাওয়াফ বিনা অজুতে করে ফেললে তা পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব; না করলে দম ওয়াজিব হবে।

ধাপ ৩ — ওয়াজিব

সাঈ

তাওয়াফের পর সাফা পাহাড় থেকে শুরু করে মারওয়া পর্যন্ত সাতবার যাতায়াত করাকে সাঈ বলে। সাফা থেকে মারওয়া এক চক্কর, মারওয়া থেকে সাফা আরেক চক্কর।

করণীয়

  1. সাফায় উঠে কাবার দিকে মুখ করে দোয়া করুন।
  2. মারওয়ার দিকে হাঁটা শুরু করুন।
  3. পুরুষ দুই সবুজ বাতির মাঝখানে হালকা দৌড়ে চলবেন; নারী স্বাভাবিক গতিতে চলবেন।
  4. সপ্তম চক্কর মারওয়ায় গিয়ে শেষ হবে।

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللّٰهِ

উচ্চারণ

ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শা‘আইরিল্লাহ।

অর্থ

নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

কখন: সাঈর শুরুতে, সাফায় · সূত্র: সুরা বাকারা ২:১৫৮; সহিহ মুসলিম

সাধারণ ভুল

  • সাফা থেকে মারওয়া হয়ে আবার সাফায় ফেরাকে এক চক্কর গোনা।
  • মারওয়া থেকে সাঈ শুরু করা।
ধাপ ৪ — ওয়াজিব

হলক বা কসর

সাঈ শেষে মাথার চুল মুণ্ডন (হলক) বা ছোট (কসর) করলে ইহরাম থেকে মুক্ত হবেন এবং উমরাহ সম্পন্ন হবে।

করণীয়

  1. পুরুষের জন্য মাথা মুণ্ডন করা উত্তম; চুল ছোট করাও জায়েজ।
  2. নারী চুলের অগ্রভাগ থেকে আঙুলের এক কর পরিমাণ কাটবেন।
  3. এরপর ইহরামের সব নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে।

সাধারণ ভুল

  • মাথার কয়েকটি চুল কেটেই ইহরাম খুলে ফেলা।
  • হলকের আগেই সেলাই করা কাপড় পরা।

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নোত্তর

মহিলারা চুল কতটুকু কাটবেন?

মহিলারা মাথার চুলের অগ্রভাগ থেকে কমপক্ষে আঙুলের এক কর পরিমাণ কাটবেন। মহিলাদের জন্য মাথা মুণ্ডানো নেই।