অফিস: শনি–বৃহস্পতি, সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৭টা

হজের দিনগুলো: ধাপে ধাপে তামাত্তু হজ

পড়তে সময় লাগবে: ১০ মিনিট সর্বশেষ হালনাগাদ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অধিকাংশ হাজি তামাত্তু হজ করেন — প্রথমে উমরাহ, তারপর ৮ জিলহজ হজের ইহরাম। নিচে ৮ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত দিনভিত্তিক করণীয় দেওয়া হলো। ৭ জিলহজ জোহরের পর কাবা শরিফে ইমামুল হজ প্রথম খুতবা দেন — সম্ভব হলে শুনুন।

ধাপ ১ — ৮ জিলহজ

মিনায় যাত্রা

ইয়াওমুত তারবিয়াহ। তামাত্তু হাজিরা মক্কা থেকে হজের ইহরাম বেঁধে মিনায় যান। ৮ তারিখ জোহর থেকে ৯ তারিখ ফজর পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মিনায় আদায় করা সুন্নত।

করণীয়

  1. গোসল করে হজের ইহরাম বাঁধুন ও নিয়ত করুন।
  2. পুরুষ উচ্চস্বরে, নারী নিচু স্বরে তালবিয়া পড়তে পড়তে মিনার দিকে রওনা হোন।
  3. মিনায় জোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও পরদিন ফজর আদায় করুন।
  4. সম্ভব হলে মসজিদে খায়েফের কাছাকাছি অবস্থান করুন।

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أُرِيْدُ الْحَجَّ فَيَسِّرْهُ لِيْ وَتَقَبَّلْهُ مِنِّيْ

উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল হাজ্জা ফাইয়াসসিরহু লি ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নি।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি হজ পালনের নিয়ত করছি। আপনি তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে কবুল করে নিন।

কখন: হজের ইহরাম বাঁধার সময় · সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নোত্তর

হজ কত প্রকার?

হজ তিন প্রকার:
ইফরাদ — শুধু হজের নিয়তে ইহরাম করে হজ পালন।
তামাত্তু — হজের মাসে প্রথমে উমরাহর ইহরাম করে উমরাহ পালন, পরে হজের জন্য আবার ইহরাম করে হজ পালন। এতে কুরবানি ওয়াজিব।
কিরান — একই ইহরামে উমরাহ ও হজ দুটোই পালন (উমরাহর পরে হালাল না হয়ে)। এতেও কুরবানি ওয়াজিব।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অধিকাংশ হাজি তামাত্তু হজ করেন।

ধাপ ২ — ৯ জিলহজ

আরাফা ও মুযদালিফা

ইয়াওমু আরাফাহ — হজের প্রধান দিন। সূর্য পশ্চিমে হেলে যাওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান (উকুফ) হজের ফরজ। সূর্যাস্তের পর মুযদালিফায় যেতে হয়।

করণীয়

  1. ফজরের পর তাকবিরে তাশরিক ও তিনবার তালবিয়া পড়ুন (৯ থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত তাকবিরে তাশরিক ওয়াজিব)।
  2. সূর্য ওঠার পর দোয়া, তাকবির ও তালবিয়া পড়তে পড়তে আরাফায় রওনা হোন।
  3. আরাফার ময়দানে দোয়া-দরুদ, নামাজ, তিলাওয়াত ও জিকিরে দিন কাটান; বেলা শেষে দুই হাত তুলে দোয়া করুন।
  4. সূর্যাস্তের পর তালবিয়া পড়তে পড়তে মুযদালিফায় রওনা হোন।
  5. মুযদালিফায় মাগরিব ও এশা একসাথে আদায় করুন এবং কংকর সংগ্রহ করুন।

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

উচ্চারণ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।

অর্থ

আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সব রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সব বিষয়ে ক্ষমতাবান।

কখন: ৯ জিলহজ, আরাফার ময়দানে · সূত্র: সুনানে তিরমিজি

সাধারণ ভুল

  • সূর্যাস্তের আগেই আরাফার সীমানা ছেড়ে যাওয়া।
  • আরাফার সীমানার বাইরে অবস্থান করা — মোয়াল্লেমের তাঁবুর সীমানা নিশ্চিত হোন।

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নোত্তর

হজের ফরজ কয়টি?

হজের ফরজ ৩টি — ইহরাম করা, উকুফে আরাফা (৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থান) এবং তাওয়াফে যিয়ারাহ (ফরজ তাওয়াফ)।

মুযদালিফা থেকে কতটি কংকর সংগ্রহ করব?

মোট ৪৯টি কংকর লাগে (১০ তারিখ ৭টি, ১১ ও ১২ তারিখ ২১টি করে)। ১৩ তারিখ মিনায় থাকলে আরও ২১টি লাগে। তাই মুযদালিফা থেকে ৭০টি কংকর সংগ্রহ করে নেওয়া ভালো।

ধাপ ৩ — ১০ জিলহজ

কংকর, কুরবানি, হলক ও তাওয়াফ

ইয়াওমুন নাহর। সুবহে সাদিকের পর কিছু সময় মুযদালিফায় অবস্থান করে মিনায় ফিরে দিনের আমলগুলো ক্রমানুসারে করতে হয়।

করণীয়

  1. সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত কিছু সময় মুযদালিফায় অবস্থান করুন (ওয়াজিব)।
  2. মিনায় পৌঁছে সূর্য ওঠার পর বড় জামারায় একে একে ৭টি কংকর নিক্ষেপ করুন।
  3. তামাত্তু ও কিরান হাজিরা কংকর নিক্ষেপের পর কুরবানি করুন।
  4. কুরবানির পর পুরুষ মাথা মুণ্ডাবেন (উত্তম) বা চুল ছোট করবেন; নারী চুলের অগ্রভাগ থেকে এক কর পরিমাণ কাটবেন।
  5. তাওয়াফে যিয়ারাহ (ফরজ তাওয়াফ) ও সাঈ করুন — ১০ তারিখে সম্ভব না হলে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে অবশ্যই।

بِسْمِ اللّٰهِ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণ

বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার।

অর্থ

আল্লাহর নামে কংকর নিক্ষেপ করছি। আল্লাহ মহান।

কখন: প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সময় · সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

সাধারণ ভুল

  • কংকর জামারার বেষ্টনীর বাইরে পড়লে তা আবার নিক্ষেপ করতে হয়।
  • কংকর নিক্ষেপের আগে কুরবানি করা — এতে দম ওয়াজিব হয়।
  • শরিয়তসম্মত ওজর ছাড়া প্রতিনিধি দিয়ে কংকর নিক্ষেপ করানো।

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নোত্তর

১০ জিলহজের আমলগুলো কোন ক্রমে করতে হয়?

প্রথমে বড় জামারায় ৭টি কংকর নিক্ষেপ, তারপর (তামাত্তু ও কিরান হলে) কুরবানি, তারপর হলক বা কসর। এই তিন আমলের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব। এরপর তাওয়াফে যিয়ারাহ ও সাঈ — সম্ভব না হলে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে অবশ্যই তাওয়াফে যিয়ারাহ সম্পন্ন করতে হবে।

ফরজ তাওয়াফ অজু ছাড়া করে ফেললে কী করতে হবে?

ফরজ তাওয়াফ বিনা অজুতে করে ফেললে তা পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব; না করলে দম ওয়াজিব হবে।

ধাপ ৪ — ১১–১২ জিলহজ

তিন জামারায় কংকর

সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ার পর তিন জামারায় ৭টি করে মোট ২১টি কংকর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব। রাত মিনায় কাটানো সুন্নত।

করণীয়

  1. প্রথমে ছোট, তারপর মধ্যম, তারপর বড় জামারায় ৭টি করে কংকর নিক্ষেপ করুন।
  2. ছোট ও মধ্যম জামারায় কংকর নিক্ষেপের পর দোয়া করুন।
  3. ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করা সম্ভব না হলে ১৩ জিলহজও তিন জামারায় কংকর নিক্ষেপ করতে হবে।

بِسْمِ اللّٰهِ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণ

বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার।

অর্থ

আল্লাহর নামে কংকর নিক্ষেপ করছি। আল্লাহ মহান।

কখন: প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সময় · সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

সাধারণ ভুল

  • সূর্য হেলে পড়ার আগেই ১১ ও ১২ তারিখের কংকর নিক্ষেপ করা।

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নোত্তর

হজের ওয়াজিব কয়টি?

হজের ওয়াজিব ৬টি:
১. ৯ জিলহজ দিবাগত রাতে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয়ের মধ্যে কিছু সময় মুযদালিফায় অবস্থান।
২. ১০ জিলহজ বড় জামারায় ৭টি এবং ১১ ও ১২ জিলহজ তিন জামারায় ৭টি করে কংকর নিক্ষেপ।
৩. কিরান ও তামাত্তু হজে দমে শোকর বা কুরবানি।
৪. হলক বা কসর।
৫. সাফা-মারওয়ায় সাঈ।
৬. মিকাতের বাইরে থেকে আসা হাজিদের বিদায়ী তাওয়াফ।

কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে দম দেওয়া ওয়াজিব।

ধাপ ৫ — মক্কা ত্যাগের আগে

বিদায়ী তাওয়াফ

মিকাতের বাইরে থেকে আসা হাজিদের জন্য মক্কা ত্যাগের আগে বিদায়ী তাওয়াফ (তাওয়াফুল বিদা) করা ওয়াজিব।

করণীয়

  1. মক্কা ছাড়ার আগে শেষ কাজ হিসেবে বিদায়ী তাওয়াফ করুন।
  2. বিদায়ী তাওয়াফের পর মক্কায় থাকতে হলে বায়তুল্লাহয় নামাজ ও নফল তাওয়াফ করতে পারবেন।