ইহরাম শব্দের অর্থ নিষিদ্ধ করা। হজ বা উমরাহর নিয়তে মিকাত থেকে তালবিয়া পাঠের মাধ্যমে হজ বা উমরাহর কাজে প্রবেশ করাকে ইহরাম বলে। ইহরামকারীকে মুহরিম বলা হয়। ইহরাম অবস্থায় অনেক হালাল কাজও মুহরিমের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
ইহরামের ফরজ ও ওয়াজিব
- ফরজ ২টি: নিয়ত করা এবং তালবিয়া পড়া।
- ওয়াজিব ২টি: মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে বেঁচে থাকা।
ইহরাম বাঁধার আগে ও সময় করণীয়
- হাত-পায়ের নখ কাটা, বগল ও নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, গোঁফ ছোট করা।
- গোসল করা, অথবা মিসওয়াকসহ অজু করা।
- পুরুষের জন্য ইহরামের আগে সুগন্ধি ব্যবহার করা (পরে কাপড়ে যেন না লাগে)।
- পুরুষ সেলাইবিহীন দুটি চাদর (লুঙ্গির মতো ইজার ও গায়ের রিদা) পরবেন; নারী শরিয়াহসম্মত স্বাভাবিক পোশাক পরবেন।
- দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে হজ বা উমরাহর নিয়ত করা।
- পুরুষ উচ্চস্বরে, নারী নিচু স্বরে তালবিয়া পড়া।
- মিকাত অতিক্রমের আগেই ইহরাম করা।
তালবিয়া পাঠের বিধান
- ইহরামের সময় নিয়তের সাথে তালবিয়া বা আল্লাহর মহত্ত্ব প্রকাশ করে এমন যেকোনো জিকির একবার উচ্চারণ করা ফরজ।
- পুরুষ উচ্চস্বরে, নারী নিচু স্বরে পড়বেন; মনে মনে পড়লে আদায় হবে না।
- যখনই পড়বেন, একসঙ্গে তিনবার পড়া উত্তম। প্রতিবার স্থান পরিবর্তনে পড়া মুস্তাহাব।
- উমরাহয় তাওয়াফ শুরুর আগে, আর হজে ১০ জিলহজ বড় জামারায় কংকর নিক্ষেপের আগে তালবিয়া বন্ধ করবেন।
ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ
- আতর ও সুগন্ধি ব্যবহার করা।
- চুল ও নখ কাটা; শিকার করা।
- পুরুষের সেলাই করা পোশাক পরা — অর্থাৎ শরীরের অঙ্গের আকৃতিতে তৈরি পোশাক।
- পুরুষের এমন জুতা পরা যাতে পায়ের পাতার মাঝখানের উঁচু হাড় ঢাকা পড়ে।
- পুরুষের মাথা ও মুখমণ্ডল ঢাকা; নারীর চেহারায় কাপড় লেগে থাকা।
- স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা ও কামভাব নিয়ে স্পর্শ; ঝগড়া-বিবাদ।
ইহরাম অবস্থায় মাকরুহ কাজ
শরীর থেকে ময়লা দূর করা, চুল-দাড়ি আঁচড়ানো, এমনভাবে চুলকানো যাতে চুল-দাড়ি পড়ে যেতে পারে, বালিশে মুখ রেখে উপুড় হয়ে শোয়া।
নারীদের ইহরাম
- নারীদের জন্য নিষিদ্ধ কাজ পুরুষের মতোই; তবে জুতা, মোজা ও হিজাব পরা জায়েজ।
- যেকোনো রঙের ঢিলেঢালা শালীন পোশাক পরবেন — আলাদা ইহরামের কাপড় নেই।
- গায়রে মাহরামের সামনে চেহারা ঢেকে রাখবেন, তবে কাপড় যেন চেহারার সাথে লেগে না থাকে।
- হায়েজ ও নিফাস অবস্থায় ইহরাম করা জায়েজ, তবে ইহরামের নামাজ পড়া যাবে না এবং মসজিদে প্রবেশ করা যাবে না।
কোনো নিষিদ্ধ কাজ হয়ে গেলে ভুলের কাফফারা গাইডটি দেখুন।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
