মসজিদে নববি মদিনার প্রধান মসজিদ, যা নবী (সা.) নিজে সাহাবিদের নিয়ে তৈরি করেছিলেন। মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-এর ঘরে রাসুল (সা.) শায়িত আছেন; পাশে আবু বকর (রা.) এবং তাঁর পেছনে উমর (রা.)। মসজিদে নববি জিয়ারত ও সালাম পেশ করা সুন্নত — এটি হজ বা উমরাহর অংশ নয়, তাই এর জন্য ইহরাম বা তালবিয়ার প্রয়োজন নেই।
নবী (সা.) বলেছেন: আমার ঘর ও মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থানটুকু জান্নাতের বাগানগুলোর একটি বাগান। এই অংশকে রিয়াজুল জান্নাহ বলে। মদিনায় অবস্থানকালে বেশি বেশি দরুদ পড়ার চেষ্টা করুন।
ধাপে ধাপে জিয়ারত
- অজু করে আদবের সাথে ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করুন এবং প্রবেশের দোয়া পড়ুন।
- সম্ভব হলে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়ুন।
- রওজা মোবারকে সালাম দিতে বাবুস সালাম দিয়ে প্রবেশ করা উত্তম। লাইনে ধীরে চলতে চলতে নিচু স্বরে সালাম পেশ করুন।
- একটু ডানে সরে আবু বকর (রা.)-কে, আরও একটু ডানে সরে উমর (রা.)-কে সালাম দিন।
- সালাম শেষে বাবুল বাকি দিয়ে বের হয়ে জান্নাতুল বাকি জিয়ারত করতে পারেন — কবর জিয়ারতের দোয়া পড়ুন।
রিয়াজুল জান্নাহ
- প্রবেশের জন্য নুসুক (Nusuk) অ্যাপে আগে থেকে সময় বুক করতে হয়।
- নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা সময় নির্ধারিত থাকে; সময়সূচি প্রায়ই বদলায় — মদিনায় পৌঁছে সর্বশেষ সময় জেনে নিন।
- সুযোগ পেলে দুই রাকাত নফল নামাজ ও দোয়া করুন, অন্যদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিন।
আদব ও সতর্কতা
- রওজার সামনে উচ্চস্বরে কথা বলবেন না, ধাক্কাধাক্কি করবেন না।
- জালি বা দেয়াল স্পর্শ করা, চুমু খাওয়া বা কবরের দিকে সিজদা করা থেকে বিরত থাকুন।
- দোয়া করার সময় কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর কাছে চান।
- নারীদের জন্য মসজিদে আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজের জায়গা আছে।
মদিনার অন্যান্য জিয়ারত
- মসজিদে কুবা: নবীজির হাতে নির্মিত প্রথম মসজিদ। হাদিসে আছে, মসজিদে কুবায় দুই রাকাত নামাজ একটি উমরাহর সমান (তিরমিজি ৩২৪)। ঘর থেকে অজু করে যাওয়া উত্তম।
- মসজিদে কিবলাতাইন, মসজিদে জুমুআ, মসজিদে গামামাহ, উহুদ প্রান্তর ও জান্নাতুল বাকি — বিস্তারিত দর্শনীয় স্থান পাতায়।
মদিনা থেকে মক্কায় যাওয়ার সময়
উমরাহর জন্য মদিনা থেকে মক্কায় গেলে জুল হুলায়ফা (আবিয়ারে আলী) মিকাতে ইহরাম বাঁধতে হবে। মসজিদে মিকাতে গোসল ও অজুর ব্যবস্থা আছে।
সূত্র: হজ ও উমরাহ সহায়িকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২০২৪)।
