“আগে উমরাহ করব, না একবারে হজ?” — বাংলাদেশের অনেক পরিবারে এ প্রশ্ন ঘোরে। উত্তর নির্ভর করে আপনার ওপর হজ ফরজ হয়েছে কি না তার ওপর। নিচে সহজভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হলো।
হজ: সামর্থ্য হলেই ফরজ
আল্লাহ বলেন, মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ওই ঘরের হজ করা তার জন্য অবশ্যকর্তব্য। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ৯৭) নবী (সা.) ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে হজকে উল্লেখ করেছেন। (সহিহ বুখারি ৮; সহিহ মুসলিম ১৬)
জীবনে একবার হজ ফরজ হয়, যখন তিনটি দিক একসঙ্গে পূরণ হয়:
- আর্থিক: যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ, আর অনুপস্থিতির সময় পরিবারের স্বাভাবিক ভরণপোষণের ব্যবস্থা।
- শারীরিক: হজের কাজগুলো নিজে আদায় করার মতো সুস্থতা।
- পথের নিরাপত্তা: যাওয়ার সুযোগ ও নিরাপত্তা; নারীর জন্য স্বামী বা মাহরাম সঙ্গী।
হজ ও উমরাহর সময়
| হজ | উমরাহ | |
|---|---|---|
| বিধান | সামর্থ্যবানের জন্য জীবনে একবার ফরজ | জীবনে একবার সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ (হানাফি মত) |
| সময় | হজের মাস — শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের প্রথম দশক; মূল কাজ ৮–১৩ জিলহজ | বছরের যেকোনো সময়; তবে ৯–১৩ জিলহজ এই পাঁচ দিন মাকরুহ |
| কোথায় যেতে হয় | মক্কা, মিনা, আরাফা, মুযদালিফা ও জামারাত | শুধু মক্কা — মসজিদুল হারামে তাওয়াফ ও সাঈ |
| সময় লাগে | সাধারণত ৩০–৪০ দিনের সফর | উমরাহ নিজে কয়েক ঘণ্টা; সফর ৭–১৫ দিন |
হজের মৌসুমে সৌদি সরকার কিছু সময় উমরাহ ভিসা ও অনুমতি বন্ধ রাখে — উমরাহর তারিখ ঠিক করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নিন। রমজানে উমরাহর বিশেষ ফজিলত আছে: নবী (সা.) বলেছেন, রমজানের উমরাহ হজের সমতুল্য — অন্য বর্ণনায়, আমার সঙ্গে হজ করার সমতুল্য। (সহিহ বুখারি ১৮৬৩; সহিহ মুসলিম ১২৫৬)
উমরাহ কি হজের বিকল্প?
না। উমরাহ যত বারই করা হোক, তাতে ফরজ হজ আদায় হয় না। হজ ফরজ হলে তা আলাদাভাবে অবশ্যই আদায় করতে হবে। আবার “উমরাহ করলেই হজ ফরজ হয়ে যায়” — এ ধারণাও ঠিক নয়; হজ ফরজ হয় সামর্থ্যের শর্ত পূরণ হলে। তবে কেউ হজের মাসে (শাওয়াল থেকে) মক্কায় পৌঁছালে এবং হজ পর্যন্ত থাকার সামর্থ্য থাকলে তাঁর বিষয়টি আলেমের কাছে জেনে নিন।
কোনটি আগে করবেন?
| আপনার অবস্থা | করণীয় |
|---|---|
| হজ ফরজ হয়েছে | দেরি না করে আগে হজের প্রস্তুতি নিন। চাইলে আগে বা পরে উমরাহও করতে পারেন — তাতে বাধা নেই। |
| হজ ফরজ হয়নি, উমরাহর সামর্থ্য আছে | উমরাহ করতে পারেন। পরে হজের সামর্থ্য হলে তখন হজ ফরজ হবে। |
| হজ ফরজ ছিল, এখন শারীরিকভাবে অক্ষম | নিজের পক্ষ থেকে অন্য কাউকে দিয়ে বদলি হজ করাতে হবে। |
| একবার ফরজ হজ আদায় হয়ে গেছে | সামর্থ্য থাকলে আবার হজ বা উমরাহ করা নফল ও সওয়াবের কাজ। |
দেরি করলে কী হয়
হজ একবার ফরজ হওয়ার পর পরে সামর্থ্য হারালেও ফরজটি মাফ হয় না। তখন বদলি হজ করাতে হয়। নবী (সা.) দ্রুত হজ আদায়ের তাগিদ দিয়েছেন, কারণ ভবিষ্যতে কী বাধা আসবে কেউ জানে না। (আবু দাউদ ১৭৩২)
হজের মৌলিক বিষয় — শর্ত, প্রকার, ফরজ-ওয়াজিব — বিস্তারিত পড়ুন হজের মৌলিক বিষয় গাইডে।
