অফিস: শনি–বৃহস্পতি, সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৭টা

মিনায় শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ কেন করা হয়

জামারাতে কংকর নিক্ষেপের পেছনে আছে ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের ইতিহাস। এর উদ্দেশ্য, প্রতীকী শিক্ষা ও সংক্ষিপ্ত নিয়ম।

১২ অক্টোবর ২০২৬ ২ মিনিটে পড়ুন
এই লেখায় যা আছে
  1. ইবরাহিম (আ.)-এর পরীক্ষার স্মৃতি
  2. উদ্দেশ্য: আল্লাহর জিকির
  3. কংকরের প্রতীকী অর্থ
  4. সংক্ষেপে কংকর নিক্ষেপের নিয়ম

জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে (কেউ কেউ ১৩ তারিখেও) হাজিরা মিনার জামারাতে ছোট ছোট কংকর নিক্ষেপ করেন। এই আমলকে বলা হয় রমি। দেখতে সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে আছে নবী ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের ইতিহাস, আর হাজির জন্য আছে গভীর শিক্ষা।

ইবরাহিম (আ.)-এর পরীক্ষার স্মৃতি

আল্লাহ যখন ইবরাহিম (আ.)-কে প্রিয় সন্তান ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানির নির্দেশ দিলেন, তখন শয়তান তাঁকে বিরত রাখতে পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনায় আছে, তিনটি স্থানে শয়তান সামনে এলে ইবরাহিম (আ.) প্রতিবার তাকে সাতটি কংকর ছুড়ে তাড়িয়ে দেন। আজকের তিনটি জামারা সেই তিন স্থানের স্মৃতি বহন করে। (ইবনে খুজাইমা ২৯৬৭; সহিহুত তারগিব ১১৫৬)

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: তোমরা শয়তানকে কংকর মারো, আর (এর মাধ্যমে) তোমাদের পিতা ইবরাহিমের আদর্শ অনুসরণ করো।

উদ্দেশ্য: আল্লাহর জিকির

নবী (সা.) বলেছেন, বায়তুল্লাহর তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সাঈ ও জামারায় কংকর নিক্ষেপ নির্ধারণ করা হয়েছে আল্লাহর জিকির কায়েমের জন্য। (আবু দাউদ ১৮৮৮; তিরমিজি ৯০২) তাই প্রতিটি কংকর ছোড়ার সময় “আল্লাহু আকবার” বলা সুন্নত।

কংকরের প্রতীকী অর্থ

  • ভেতরের শয়তানের বিরুদ্ধে: জামারায় কোনো দৃশ্যমান শয়তান নেই। কংকর নিক্ষেপ আসলে নিজের লোভ, অহংকার, হিংসা ও পাপের প্রবণতার বিরুদ্ধে এক প্রতীকী ঘোষণা।
  • প্রশ্নহীন আনুগত্য: সব ইবাদতের রহস্য মানুষ বোঝে না। ইবরাহিম (আ.) যেমন বিনা দ্বিধায় আদেশ মেনেছিলেন, হাজিও তেমনি আল্লাহর হুকুম হিসেবেই কংকর ছোড়েন।
  • উম্মাহর ঐক্য: নানা দেশ, ভাষা ও বর্ণের লাখো মানুষ একই দিনে, একই নিয়মে কংকর ছোড়েন — অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই কারও একার নয়, সবার।
  • সফরের পরও: মিনা থেকে ফিরে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পাপের প্রলোভনকে না বলাই এই আমলের আসল শিক্ষা।

সংক্ষেপে কংকর নিক্ষেপের নিয়ম

তারিখ কোথায় কয়টি
১০ জিলহজ শুধু বড় জামারা (জামরাতুল আকাবা) ৭টি
১১ ও ১২ জিলহজ প্রথমে ছোট, তারপর মধ্যম, শেষে বড় জামারা প্রতিটিতে ৭টি — দিনে ২১টি
১৩ জিলহজ (মিনায় থাকলে) তিন জামারা একই ক্রমে দিনে ২১টি
  • কংকর হবে ছোলা বা খেজুরের বিচির মতো ছোট; বড় পাথর, জুতা বা অন্য কিছু ছোড়া যাবে না।
  • ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি করবেন না; সৌদি কর্তৃপক্ষ ও মোয়াল্লেমের দেওয়া সময়সূচি মেনে চলুন।
  • অসুস্থ বা দুর্বল হলে নিয়ম মেনে অন্য কাউকে দিয়ে কংকর নিক্ষেপ করানো যায়।

দিনভিত্তিক বিস্তারিত নিয়ম পড়ুন হজের দিনগুলো গাইডে।

শেয়ার করুন:

লেখাটি কোরআন-হাদিস ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের আলোকে তৈরি। মাসআলার ক্ষেত্রে নিজের অবস্থা অনুযায়ী আলেমের পরামর্শ নিন।

আপনার প্রস্তুতি কতটা? ৩০টি প্রশ্নে উমরাহ, ইহরাম, হজ ও মদিনা জিয়ারতের জ্ঞান যাচাই করুন — প্রতিটি উত্তরের সাথে ব্যাখ্যা।
কুইজ শুরু করুন