হজ এমন এক ইবাদত, যা সামর্থ্য থাকলেই সবার ভাগ্যে জোটে না। আবার সামর্থ্য না থাকলেও অনেকে বুকভরা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অপেক্ষা করেন। দুই অবস্থাতেই আল্লাহর কাছে তাওফিক চাওয়া এবং নিজের দিক থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই মুমিনের কাজ।
নিয়ত, দোয়া ও চেষ্টা
নবী (সা.) বলেছেন, সব আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। (সহিহ বুখারি ১) আরেক হাদিসে আছে, কেউ কোনো নেক কাজের ইচ্ছা করে তা করতে না পারলেও আল্লাহ তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি লিখে দেন। (সহিহ বুখারি ৬৪৯১; সহিহ মুসলিম ১৩০) তাই আলেমরা হজের আকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিকে তিনটি কাজের পরামর্শ দেন:
- দৃঢ় নিয়ত: মনে মনে স্থির করুন — “হে আল্লাহ, আমি আপনার ঘরের হজ করতে চাই, আমার জন্য সহজ করে দিন এবং কবুল করুন।”
- নিয়মিত দোয়া: নামাজের পর, শেষ রাতে ও দোয়া কবুলের সময়গুলোতে হজের তাওফিক চাইতে থাকুন।
- সাধ্যমতো প্রস্তুতি: হালাল উপার্জন থেকে অল্প অল্প সঞ্চয় করুন, পাসপোর্ট ও স্বাস্থ্যের প্রস্তুতি নিন, আর হজের নিয়মকানুন শিখতে শুরু করুন।
ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর দোয়া
কাবা নির্মাণ শেষে দুই নবী আল্লাহর কাছে কবুলিয়াত ও হজের নিয়ম শেখার দোয়া করেছিলেন:
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ، رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
উচ্চারণ: রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না, ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম। রব্বানা ওয়াজআলনা মুসলিমাইনি লাকা ওয়া মিন যুররিয়্যাতিনা উম্মাতাম মুসলিমাতাল লাক, ওয়া আরিনা মানাসিকানা ওয়া তুব আলাইনা, ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রহিম।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সব শোনেন, সব জানেন। হে আমাদের রব, আমাদের দুজনকে আপনার অনুগত বানান, আমাদের বংশধরদের মধ্যে থেকেও আপনার অনুগত একটি উম্মত তৈরি করুন, আমাদের হজের নিয়মকানুন দেখিয়ে দিন এবং আমাদের তাওবা কবুল করুন। (সুরা বাকারা, আয়াত ১২৭–১২৮)
হজে মাবরুরের দোয়া
হজ শুধু আদায় হওয়াই যথেষ্ট নয়, তা যেন “মাবরুর” অর্থাৎ পাপমুক্ত ও কবুল হয় — এটাই আসল চাওয়া। নবী (সা.) বলেছেন, মাবরুর হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়। (সহিহ বুখারি ১৭৭৩; সহিহ মুসলিম ১৩৪৯) হাজিরা এ জন্য নিচের দোয়াটি পড়েন, যা কয়েকজন সাহাবি কংকর নিক্ষেপের সময় পড়তেন বলে বর্ণিত:
اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ حَجًّا مَبْرُورًا، وَذَنْبًا مَغْفُورًا، وَسَعْيًا مَشْكُورًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজ আলহু হাজ্জান মাবরুরা, ওয়া যাম্বান মাগফুরা, ওয়া সা‘ইয়ান মাশকুরা।
অর্থ: হে আল্লাহ, এই হজকে মাবরুর হজ বানিয়ে দিন, গুনাহ মাফ করে দিন এবং আমার চেষ্টাকে গ্রহণ করুন।
হজ ও উমরাহর ফজিলত
- যে ব্যক্তি হজ করে এবং অশ্লীল কথা ও গুনাহ থেকে বিরত থাকে, সে সদ্যোজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফেরে। (সহিহ বুখারি ১৫২১)
- তোমরা বারবার হজ ও উমরাহ করো; এ দুটি দারিদ্র্য ও গুনাহ এমনভাবে দূর করে, যেমন হাপর লোহা ও সোনা-রুপার ময়লা দূর করে। (তিরমিজি ৮১০)
ফরজ হলে দেরি নয়
নবী (সা.) বলেছেন, যে হজ করতে চায় সে যেন তাড়াতাড়ি করে নেয়; কারণ যেকোনো সময় অসুস্থতা, বাহনের অভাব বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিতে পারে। (আবু দাউদ ১৭৩২; ইবনে মাজাহ ২৮৮৩) এক হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ যে বান্দাকে সুস্থতা ও প্রশস্ত রিজিক দিয়েছেন, সে পাঁচ বছর পার হওয়ার পরও আল্লাহর ঘরে না এলে সে বঞ্চিত। (ইবনে হিব্বান; বাইহাকি, সুনানে কুবরা)
হজ ফরজ হওয়ার পর কেউ অবহেলা করে দেরি করলে, আর পরে সামর্থ্য হারালে বা মারা গেলে, ফরজ অনাদায়ের দায় তাঁর ওপর থেকে যায়। এমন কেউ অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করে দ্রুত হজের নিয়ত ও প্রস্তুতি শুরু করলে আল্লাহর ক্ষমার আশা রাখা যায়। শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে গেলে বদলি হজের বিধান জেনে নিন।
আজ থেকেই শুরু করুন
কত টাকা জমাতে হবে, তার ধারণা পেতে আমাদের খরচ পরিকল্পনা টুল দেখুন, আর নিজের প্রস্তুতি যাচাই করতে প্রস্তুতি কুইজ দিন।
