জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে (কেউ কেউ ১৩ তারিখেও) হাজিরা মিনার জামারাতে ছোট ছোট কংকর নিক্ষেপ করেন। এই আমলকে বলা হয় রমি। দেখতে সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে আছে নবী ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের ইতিহাস, আর হাজির জন্য আছে গভীর শিক্ষা।
ইবরাহিম (আ.)-এর পরীক্ষার স্মৃতি
আল্লাহ যখন ইবরাহিম (আ.)-কে প্রিয় সন্তান ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানির নির্দেশ দিলেন, তখন শয়তান তাঁকে বিরত রাখতে পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনায় আছে, তিনটি স্থানে শয়তান সামনে এলে ইবরাহিম (আ.) প্রতিবার তাকে সাতটি কংকর ছুড়ে তাড়িয়ে দেন। আজকের তিনটি জামারা সেই তিন স্থানের স্মৃতি বহন করে। (ইবনে খুজাইমা ২৯৬৭; সহিহুত তারগিব ১১৫৬)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: তোমরা শয়তানকে কংকর মারো, আর (এর মাধ্যমে) তোমাদের পিতা ইবরাহিমের আদর্শ অনুসরণ করো।
উদ্দেশ্য: আল্লাহর জিকির
নবী (সা.) বলেছেন, বায়তুল্লাহর তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সাঈ ও জামারায় কংকর নিক্ষেপ নির্ধারণ করা হয়েছে আল্লাহর জিকির কায়েমের জন্য। (আবু দাউদ ১৮৮৮; তিরমিজি ৯০২) তাই প্রতিটি কংকর ছোড়ার সময় “আল্লাহু আকবার” বলা সুন্নত।
কংকরের প্রতীকী অর্থ
- ভেতরের শয়তানের বিরুদ্ধে: জামারায় কোনো দৃশ্যমান শয়তান নেই। কংকর নিক্ষেপ আসলে নিজের লোভ, অহংকার, হিংসা ও পাপের প্রবণতার বিরুদ্ধে এক প্রতীকী ঘোষণা।
- প্রশ্নহীন আনুগত্য: সব ইবাদতের রহস্য মানুষ বোঝে না। ইবরাহিম (আ.) যেমন বিনা দ্বিধায় আদেশ মেনেছিলেন, হাজিও তেমনি আল্লাহর হুকুম হিসেবেই কংকর ছোড়েন।
- উম্মাহর ঐক্য: নানা দেশ, ভাষা ও বর্ণের লাখো মানুষ একই দিনে, একই নিয়মে কংকর ছোড়েন — অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই কারও একার নয়, সবার।
- সফরের পরও: মিনা থেকে ফিরে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পাপের প্রলোভনকে না বলাই এই আমলের আসল শিক্ষা।
সংক্ষেপে কংকর নিক্ষেপের নিয়ম
| তারিখ | কোথায় | কয়টি |
|---|---|---|
| ১০ জিলহজ | শুধু বড় জামারা (জামরাতুল আকাবা) | ৭টি |
| ১১ ও ১২ জিলহজ | প্রথমে ছোট, তারপর মধ্যম, শেষে বড় জামারা | প্রতিটিতে ৭টি — দিনে ২১টি |
| ১৩ জিলহজ (মিনায় থাকলে) | তিন জামারা একই ক্রমে | দিনে ২১টি |
- কংকর হবে ছোলা বা খেজুরের বিচির মতো ছোট; বড় পাথর, জুতা বা অন্য কিছু ছোড়া যাবে না।
- ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি করবেন না; সৌদি কর্তৃপক্ষ ও মোয়াল্লেমের দেওয়া সময়সূচি মেনে চলুন।
- অসুস্থ বা দুর্বল হলে নিয়ম মেনে অন্য কাউকে দিয়ে কংকর নিক্ষেপ করানো যায়।
দিনভিত্তিক বিস্তারিত নিয়ম পড়ুন হজের দিনগুলো গাইডে।
