নকশাটি বোঝার সুবিধার জন্য সরল করে আঁকা — মাপ ও দূরত্ব আনুমানিক। কমলা দাগ: তাওয়াফের দিক — কাবা সবসময় বাঁ দিকে।
হাজরে আসওয়াদ
الحجر الأسود
কাবার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে, মাতাফ থেকে প্রায় দেড় মিটার উঁচুতে স্থাপিত জান্নাতি কালো পাথর। প্রতিটি তাওয়াফ এখান থেকে শুরু হয় এবং প্রতি চক্কর এখানেই শেষ হয়।
এখানে যা করবেন
- পাথরের বরাবর দাঁড়িয়ে বায়তুল্লাহর দিকে ফিরে তাকবির বলুন: "বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার…"
- সম্ভব হলে কাউকে কষ্ট না দিয়ে স্পর্শ ও চুম্বন করুন; না হলে দূর থেকে দুই হাত তুলে ইশারা করে হাতে চুমু খান
সতর্কতা: চুম্বনের জন্য ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি করবেন না — কাউকে কষ্ট দেওয়া গুনাহ, ইশারাই যথেষ্ট।
মুলতাজাম ও কাবার দরজা
الملتزم · باب الكعبة
হাজরে আসওয়াদ ও কাবার দরজার মাঝের দেয়ালের অংশকে মুলতাজাম বলে। কাবার দরজা মাটি থেকে বেশ উঁচুতে, এই দেয়ালেই।
এখানে যা করবেন
- সম্ভব হলে মুলতাজামে বুক ও গাল লাগিয়ে দোয়া করুন
- ভিড় বেশি হলে দূরে দাঁড়িয়ে এদিকে ফিরে দোয়া করুন
সতর্কতা: কাউকে কষ্ট দিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
রুকনে ইরাকি
الركن العراقي
হাজরে আসওয়াদের পর তাওয়াফের পথে কাবার দ্বিতীয় কোণ; এরপর হাতিম।
এখানে যা করবেন
- তাওয়াফ চালিয়ে যান; এখানে আলাদা কোনো আমল নেই
হাতিম (হিজরে ইসমাইল)
الحطيم · حجر إسماعيل
কাবার উত্তর পাশে অর্ধবৃত্তাকার নিচু দেয়ালঘেরা জায়গা — এটি মূল কাবারই অংশ। ওপরের সোনালি নালাটি মিজাবে রহমত।
এখানে যা করবেন
- তাওয়াফ সবসময় হাতিমের বাইরে দিয়ে করুন
- তাওয়াফ ছাড়া অন্য সময় সুযোগ পেলে হাতিমের ভেতরে নফল নামাজ ও দোয়া করুন
সতর্কতা: হাতিমের ভেতর দিয়ে তাওয়াফ করলে সেই চক্কর গণ্য হয় না।
রুকনে শামি
الركن الشامي
সিরিয়ার দিকের কোণ — হাতিম পার হয়ে এই কোণে আসবেন।
এখানে যা করবেন
- তাওয়াফ চালিয়ে যান
রুকনে ইয়ামানি
الركن اليماني
ইয়েমেনের দিকের চতুর্থ কোণ। এরপরই হাজরে আসওয়াদ।
এখানে যা করবেন
- সম্ভব হলে স্পর্শ করুন — স্পর্শ করতে না পারলে ইশারার বিধান নেই
- এখান থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত "রাব্বানা আতিনা…" দোয়া পড়ুন
মাকামে ইবরাহিম
مقام إبراهيم
যে পাথরে দাঁড়িয়ে ইবরাহিম (আ.) কাবা নির্মাণ করেছিলেন; পাথরে তাঁর পায়ের ছাপ আছে। সোনালি কাচের আবরণে রাখা, কাবার দরজার সামনে।
এখানে যা করবেন
- তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ পড়া উত্তম
- ভিড় হলে মাতাফ বা মসজিদের যেকোনো স্থানে পড়লেও চলবে
সতর্কতা: মাকামের ঠিক পেছনে নামাজ পড়ে তাওয়াফকারীদের পথ আটকাবেন না।
জমজম
زمزم
হাজেরা (আ.) ও শিশু ইসমাইল (আ.)-এর জন্য আল্লাহর নির্দেশে প্রবাহিত বরকতময় কূপ। এখন কূপটি মাটির নিচে; পুরো মসজিদে জমজমের পানির ব্যবস্থা আছে।
এখানে যা করবেন
- তাওয়াফ ও দুই রাকাত নামাজের পর জমজম পান করুন — দাঁড়িয়ে বা বসে দুইভাবেই পান করা যায়
- "বিসমিল্লাহ" বলে শুরু করুন, দোয়া করুন, শেষে "আলহামদুলিল্লাহ" বলুন
সাফা
الصفا
হাজরে আসওয়াদের দিকের ছোট পাহাড়। সাঈ এখান থেকে শুরু হয়।
এখানে যা করবেন
- সাফায় উঠে কাবার দিকে ফিরে "ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা…" পড়ে দোয়া করুন
- এরপর মারওয়ার দিকে হাঁটা শুরু করুন — এটি প্রথম চক্কর
সবুজ বাতি (মাইলাইন)
الميلين الأخضرين
সাফা ও মারওয়ার মাঝে সবুজ বাতি দিয়ে চিহ্নিত অংশ — হাজেরা (আ.) পানির খোঁজে এখানে দৌড়েছিলেন।
এখানে যা করবেন
- পুরুষ দুই সবুজ বাতির মাঝে মাঝারি গতিতে দৌড়ে চলবেন
- নারী স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবেন
- "রাব্বিগফির ওয়ারহাম…" দোয়া পড়া উত্তম
মারওয়া
المروة
সাঈর অপর প্রান্তের পাহাড়। সাফা থেকে মারওয়া এক চক্কর, মারওয়া থেকে সাফা আরেক চক্কর — সপ্তম চক্কর মারওয়ায় শেষ।
এখানে যা করবেন
- এখানেও কাবার দিকে ফিরে দোয়া করুন
- সাঈ শেষে হলক বা কসর করে উমরাহ সম্পন্ন করুন
সতর্কতা: সাফা → মারওয়া → সাফা মিলে এক চক্কর নয়।
কাবা শরিফ
الكعبة المشرفة
আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহ — বিশ্বের মুসলমানদের কিবলা। উচ্চতা প্রায় ১৪ মিটার। কালো রেশমি আবরণকে কিসওয়া বা গিলাফ বলে, যা প্রতি বছর ৯ জিলহজ বদলানো হয়।
এখানে যা করবেন
- কাবার ওপর প্রথম দৃষ্টি পড়লে দোয়া করুন — এটি দোয়া কবুলের সময়
সতর্কতা: তাওয়াফের সময় কাবার দিকে বুক ঘোরানো মাকরুহ।
কাবা চত্বরের স্থানগুলো
নকশাটি বোঝার সুবিধার জন্য সরল করে আঁকা — মাপ ও দূরত্ব আনুমানিক। কমলা দাগ: প্রচলিত জিয়ারতের পথ।
বাবুস সালাম
باب السلام
মসজিদের পশ্চিম দিকের এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করে রওজা মোবারকে সালাম দিতে যাওয়া উত্তম।
এখানে যা করবেন
- ডান পা দিয়ে প্রবেশ করুন ও মসজিদে প্রবেশের দোয়া পড়ুন
- ভিড়ের সময় নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশ মেনে লাইনে চলুন
রিয়াজুল জান্নাহ
الروضة الشريفة
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘর ও মিম্বারের মাঝের অংশ। নবীজি (সা.) বলেছেন, এই স্থান জান্নাতের বাগানগুলোর একটি বাগান। আলাদা কার্পেট ও স্তম্ভ দিয়ে চিহ্নিত।
এখানে যা করবেন
- নুসুক অ্যাপে আগে থেকে সময় বুক করে প্রবেশ করুন
- সুযোগ পেলে দুই রাকাত নফল নামাজ ও দোয়া করুন; অন্যদের জায়গা ছেড়ে দিন
সতর্কতা: নারী ও পুরুষের প্রবেশের সময় আলাদা — সময়সূচি প্রায়ই বদলায়।
রওজা মোবারক
الحجرة النبوية
মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-এর ঘরে রাসুলুল্লাহ (সা.) শায়িত আছেন, সবুজ গম্বুজের নিচে। পাশে আবু বকর (রা.) ও উমর (রা.)-এর কবর।
এখানে যা করবেন
- সামনের পথে ধীরে চলতে চলতে আদবের সাথে নিচু স্বরে সালাম পেশ করুন
- একটু ডানে সরে আবু বকর (রা.), আরও একটু ডানে সরে উমর (রা.)-কে সালাম দিন
সতর্কতা: জালি স্পর্শ বা চুমু খাওয়া, কবরের দিকে সিজদা এবং উচ্চস্বরে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
মিম্বার নববি
المنبر النبوي
রাসুলুল্লাহ (সা.) যে মিম্বারে খুতবা দিতেন তার স্থানে বর্তমান মিম্বার। এটি রিয়াজুল জান্নাহর পশ্চিম সীমা।
মিহরাবে নববি
المحراب النبوي
রাসুলুল্লাহ (সা.) যে স্থানে দাঁড়িয়ে ইমামতি করতেন, সেখানে নির্মিত মিহরাব। মিহরাবের ডান পাশে নবীজির দাঁড়ানোর জায়গা।
এখানে যা করবেন
- মাকরুহ ওয়াক্ত না হলে কাউকে কষ্ট না দিয়ে এখানে নফল নামাজ পড়ুন
উসতুওয়ানা হান্নানা
أسطوانة الحنانة
মিম্বারের ডান পাশে খেজুরগাছের যে কাণ্ডে হেলান দিয়ে নবী (সা.) খুতবা দিতেন, মিম্বার তৈরির পর সেটি উচ্চস্বরে কেঁদে উঠেছিল — সেই স্থানের স্তম্ভ।
উসতুওয়ানা আয়েশা
أسطوانة عائشة
রিয়াজুল জান্নাহর ভেতরের স্তম্ভ। আয়েশা (রা.) এই স্থানের ফজিলত বর্ণনা করেছিলেন বলে এই নাম; একে উসতুওয়ানা মুহাজিরিনও বলা হয়।
উসতুওয়ানা আবু লুবাবা (তাওবা)
أسطوانة التوبة
একটি ভুলের পর সাহাবি আবু লুবাবা (রা.) নিজেকে এই খুঁটির সাথে বেঁধে বলেছিলেন, নবীজি নিজ হাতে না খোলা পর্যন্ত বাঁধা থাকবেন। তাঁর তাওবা কবুল হলে রাসুল (সা.) নিজে বাঁধন খুলে দেন।
উসতুওয়ানা সারির, হারাস ও উফুদ
السرير · الحرس · الوفود
সারির — ইতিকাফের সময় রাসুল (সা.)-এর বিশ্রামের বিছানা রাখার স্থান। হারাস — সাহাবিরা এখানে পাহারা দিতেন। উফুদ — বাইরের প্রতিনিধিদল এখানে বসে রাসুল (সা.)-এর সাথে কথা বলত ও ইসলাম গ্রহণ করত। স্তম্ভগুলো হুজরা শরিফের পশ্চিম পাশে জালি মোবারকের সাথে।
সুফফা
الصفة
রওজা মোবারকের উত্তরে উঁচু চত্বর — দরিদ্র সাহাবিরা (আসহাবে সুফফা) এখানে থেকে দ্বীন শিখতেন।
বাবুল বাকি ও জান্নাতুল বাকি
باب البقيع
সালাম পেশ করে পূর্ব দিকের দরজা দিয়ে বের হলে সামনেই জান্নাতুল বাকি — এখানে উসমান (রা.), ফাতিমা (রা.), আয়েশা (রা.)সহ বহু সাহাবি ও তাবেয়ির কবর রয়েছে।
এখানে যা করবেন
- বাম পা দিয়ে বের হোন ও মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়া পড়ুন
- কবর জিয়ারতের দোয়া পড়ুন; বাকি সাধারণত ফজর ও আসরের পর খোলা থাকে
